শান্তিপুরে কবর থেকে মৃতদেহ উধাও কান্ডে গ্রেফতার ৩, চাঞ্চল্যকর তদন্তে পুলিশ

নদীয়ার শান্তিপুর পৌরসভা এলাকায় কবরস্থান থেকে একের পর এক মৃতদেহ লোপাটের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাতের অন্ধকারে দেহ চুরির এই অমানবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে ক্ষুব্ধ জনতা শান্তিপুর থানার সামনে অবস্থানে বসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
উত্তেজনার আবহে বিভিন্ন মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে শান্তিপুর পৌরসভা এবং থানায় লিখিত ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তে নামে শান্তিপুর থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ এই চক্রের সাথে জড়িত সন্দেহে সুমন অধিকারী, দয়াময় এবং পাপাই বিশ্বাস নামে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল চক্রের হদিস পেতে সাত দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, কবরস্থানগুলোতে নজরদারি চালানোর জন্য বিশেষ ভাবে একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। ওই আধিকারিক প্রতিদিন রাতে প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করবেন। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শান্তিপুরের প্রতিটি কবরস্থানে নৈশকালীন টহলদারি এবং বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পৌর প্রশাসন ইতিমধ্যে বিভিন্ন কবরস্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে যাতে দুষ্কৃতীরা লুকিয়ে থাকার সুযোগ না পায়। প্রশাসনিক এই তৎপরতার পাশাপাশি মসজিদ কমিটিগুলোও নিজস্ব উদ্যোগে কবরস্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মৃতদেহ চুরির মতো এই নক্কারজনক ঘটনার পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই অপরাধের নেপথ্যে থাকা বাকি সদস্যদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আপাতত প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও নজরদারিতে এলাকায় কিছুটা শান্তি ফিরেছে।