পাত্রী খুঁজে না দেওয়ায় চরম পরিণতি, নিজের জন্মদাত্রীকে পিটিয়ে খুন করল গুণধর ছেলে

পাত্রী খুঁজে না দেওয়ায় চরম পরিণতি, নিজের জন্মদাত্রীকে পিটিয়ে খুন করল গুণধর ছেলে

বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে দিতে পারেননি মা। এই সামান্য ক্ষোভ থেকেই জন্মদাত্রীকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। কর্ণাটকের হাসান জেলার চন্নরায়পত্তন তালুকের শ্রাবণবেলাগোলায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার নৃশংসতায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

নিহত ওই বৃদ্ধার নাম গঙ্গামা (৬৫)। বেশ কিছুদিন ধরেই বিয়ের দাবিতে মা ও ছেলের মধ্যে অশান্তি চলছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর চল্লিশের অভিযুক্ত যুবক উমাশঙ্কর দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিবারের কাছে বিয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বারবার বলা সত্ত্বেও উপযুক্ত জীবনসঙ্গিনী খুঁজে না পাওয়ায় মায়ের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই গত ২৬ মার্চ উমাশঙ্কর তাঁর মায়ের ওপর চড়াও হন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান অনুযায়ী, সেদিন বাড়ির ভেতরেই মা ও ছেলের মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে উমাশঙ্কর তাঁর মাকে বেধড়ক মারধর করেন। ছেলের মারে গুরুতর জখম হয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধা। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসান জেলার এইচআইএমএস হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ৩০ মার্চ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গঙ্গামা।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উমাশঙ্কর নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, রাগের মাথায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি মাকে মারধর করেছিলেন। পুলিশ অভিযুক্তের শরীরেও আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে। যদিও উমাশঙ্করের দাবি, কুম্ভমেলা থেকে ফেরার পথে একটি দুর্ঘটনার কারণে তাঁর কপাল ফেটেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত এবং তাঁর মেজাজ খিটখিটে হয়ে গিয়েছিল। সামান্য কারণেও তিনি মানুষকে আঘাত করার প্রবণতায় ভুগছিলেন বলে দাবি করেছেন।

পুলিশ বর্তমানে অভিযুক্তের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। শ্রাবণবেলাগোলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে। পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একটি সাজানো সংসারের এমন করুণ পরিণতি এবং বিয়ের মতো বিষয়ে নিজের মাকে খুনের ঘটনাটি সামাজিক অবক্ষয়ের এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে সামনে আসছে। এই ঘটনায় হাসান জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *