মমতা মুর্শিদাবাদে থাকা মানেই দাঙ্গা লাগার আশঙ্কা, অধীর চৌধুরীর বিস্ফোরক অভিযোগ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। জেলায় জেলায় হেভিওয়েট নেতাদের প্রচার এবং পালটা প্রচারে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদ জেলা সফররত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের হেভিওয়েট প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এই জেলায় বেশিদিন অবস্থান করলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে এবং দাঙ্গা লাগার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
মুর্শিদাবাদে নির্বাচনী সভা চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন অধীর চৌধুরী। সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী এখানে আসা মানেই অশান্তি ডেকে আনা। অধীরের দাবি, বিগত বহরমপুর লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে পরাজিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা লাগানো হয়েছিল এবং তার নেপথ্যে তৃণমূলনেত্রীর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে তিনি দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের কাছেও এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভোটের আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিতর্কিত মানুষকে মুর্শিদাবাদ জেলায় স্থান দেওয়া উচিত নয়। জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে অধীরের এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি সরাসরি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগ।
অধীর চৌধুরীর এই ‘দাঙ্গা তত্ত্ব’ সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, গত নির্বাচনে তাঁকে হারানোর জন্য যে ষড়যন্ত্রমূলক অশান্তি পাকানো হয়েছিল, এবারও তার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে। অধীরের কথায়, তৃণমূল সুপ্রিমোর জেলায় উপস্থিতি মানেই সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা। এই কড়া ভাষায় আক্রমণ থেকে স্পষ্ট যে, মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখতে কংগ্রেস এবার অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও কঠোর কৌশল অবলম্বন করছে।
ভোটের মুখে কংগ্রেস প্রার্থীর এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে পালটা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক এবং জেলার জটিল রাজনৈতিক পাটিগণিতে নিজের জায়গা শক্ত করতেই অধীর চৌধুরী অত্যন্ত আগ্রাসী মেজাজে ধরা দিচ্ছেন।
২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে মুর্শিদাবাদের মাটিতে এই বাকযুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন ও প্রচার, অন্যদিকে অধীর চৌধুরীর নিরাপত্তা ও অশান্তির অভিযোগ— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে জেলার সাধারণ ভোটারদের মেরুকরণ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি যে যথেষ্ট উত্তপ্ত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।