নিয়োগ দুর্নীতি ছাপিয়ে বড়ঞায় কি ফুটবে ঘাসফুল? ভাগ্য নির্ধারণে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জীবনকৃষ্ণ সাহার নাটকীয় গ্রেপ্তারির পর মুর্শিদাবাদের বড়ঞা বিধানসভা এখন রাজ্য রাজনীতির ‘হটস্পট’। এক সময়ের বাম ও কংগ্রেসের এই দুর্গে একুশে তৃণমূল জিতলেও, চব্বিশের লোকসভা ভোটে লিড পায় বিজেপি। এবার দুর্নীতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলতে শাসকদল ভরসা রেখেছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রাক্তন বিধায়ক প্রতিমা রজকের ওপর। অন্যদিকে, হিন্দুত্ব ও মেরুকরণের অস্ত্র সাজিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে বিজেপির সুখেন বাগদি।
প্রায় ৬০ শতাংশ হিন্দু ও ৪০ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য এবং স্থানীয় দুর্নীতি প্রধান নির্বাচনী ইস্যু। সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল মজবুত হলেও পঞ্চায়েত সমিতিতে বাম-কংগ্রেস জোটের দাপট শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। তবে প্রতিমাদেবীর ব্যক্তিগত পরিচিতি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে বৈতরণী পার হওয়ার আশা রাখছে জোড়াফুল শিবির।
বড়ঞার নির্বাচনী পাটিগণিতে সংখ্যালঘু ভোট বড় ফ্যাক্টর। যদি কংগ্রেস বা ছোট দলগুলি সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসায়, তবে মেরুকরণের সুবিধা নিয়ে পদ্ম শিবিরের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। শেষ পর্যন্ত বড়ঞার মানুষ দুর্নীতির দাগ মুছে তৃণমূলকে ফেরাবে, নাকি পরিবর্তনের পথে হাঁটবে, তা নির্ধারণ করবে প্রান্তিক ভোটারদের এই জটিল সমীকরণ।