ব্রিটেন থেকে নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের মাস্টারস্ট্রোক, চাপে পড়তে পারে চীন

ব্রিটেন থেকে নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের মাস্টারস্ট্রোক, চাপে পড়তে পারে চীন

ভারত তার বিশ্ব বাণিজ্য কৌশলে এক বিশাল সাফল্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে ব্রিটেন ও ওমানের সঙ্গে হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) কার্যকর হতে চলেছে। এর পাশাপাশি, চলতি এপ্রিল মাসেই নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিক চুক্তিগুলো বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে এবং এর ফলে প্রতিবেশী দেশ চীনের বাণিজ্যিক আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ক্যামেরুনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বৈঠকের ফাঁকে একাধিক দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সারেন পীযূষ গোয়েল। সেখানে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভারত-ইউকে বাণিজ্য চুক্তি ইতিমধ্যে ব্রিটেনের উভয় সদনে অনুমোদন পেয়েছে। আগামী ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই এই চুক্তিটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। অন্যদিকে, ওমানের সঙ্গে হওয়া চুক্তির বাস্তবায়ন মে মাস থেকেই শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গেও আলোচনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা ভারতের রফতানি খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

আমেরিকার বাজারের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান বেশ কৌশলী। বর্তমানে মার্কিন বাজারে সব দেশের ওপর প্রায় ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য রয়েছে। পীযূষ গোয়েল পরিষ্কার জানিয়েছেন, চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া বা বাংলাদেশের তুলনায় ভারত যখন শুল্কের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবে, তখনই আমেরিকার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তিতে যাবে দিল্লি। ভারত চায় মার্কিন বাজারে তাদের রফতানিকারকরা যেন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে থাকার সুযোগ পায়। এই বৈষম্যমূলক শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য নীতির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উঠে এসেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতীয় রফতানিকারক ও প্রস্তুতকারকদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ইতিমধ্যে বিমা প্রিমিয়ামে ছাড় দিয়েছে এবং বিভিন্ন কাঁচামালের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ঝুঁকির কারণে রফতানি পণ্য পরিবহনে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে, যা খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বাড়তি আর্থিক বোঝা কমাতে রফতানিকারকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক এই সংকটের মধ্যেও দেশে খাদ্য বা জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে পরিবহনের গতি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। প্রতিকূল ভৌগোলিক রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও ভারত কীভাবে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চুক্তি সম্পন্ন করছে, তা দেশের ভবিষ্যৎ বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *