এআই বিপ্লবে বড় চ্যালেঞ্জ, দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব নীতি আয়োগের সতর্কবার্তায় বিপাকে সরকার

এআই বিপ্লবে বড় চ্যালেঞ্জ, দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব নীতি আয়োগের সতর্কবার্তায় বিপাকে সরকার

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে কর্মসংস্থান হারানোর ভয় যেমন বাড়ছে, তেমনই পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও প্রকট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়োপযোগী এআই কোর্স তৈরি না হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সঠিক দিশায় এগোলে আগামী পাঁচ বছরে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

নীতি আয়োগ সম্প্রতি ভারত সরকারকে এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে সতর্ক করেছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে এআই-এর প্রভাবে দেশে প্রায় ১৫ লক্ষ কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হতে পারে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক প্রস্তুতি থাকলে একই সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০ লক্ষ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। এই লক্ষ্যপূরণে স্কুল থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ—সর্বস্তরের পাঠ্যক্রমে এআই এবং ডেটা সায়েন্স বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। এমনকি মানবিক শাখার পড়ুয়াদের জন্যও এই শিক্ষা অপরিহার্য বলে মনে করছে নীতি আয়োগ।

তবে এই পরিকল্পনার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের অভাব। শিক্ষা মন্ত্রক এবং অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (AICTE) কাজ শুরু করলেও বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে পড়ানোর মতো দক্ষ প্রশিক্ষক দেশে নেই। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন শাখায় এআই অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তা শেখানোর মতো জনবল নিশ্চিত করাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত বর্তমান কর্মীদের ‘আপস্কিলিং’ বা পুনঃপ্রশিক্ষণ না দিলে তাদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

সম্প্রতি ওরাকলের মতো সংস্থা থেকে ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণায় প্রযুক্তি বিশ্বে শোরগোল পড়ে গেছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ এটিকে এআই-এর প্রভাব হিসেবে মানতে নারাজ, তবুও সাধারণ মহলে আতঙ্ক থেকেই যাচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এআইসিটিই ইতিমধ্যেই প্রায় চার হাজার প্রতিষ্ঠানে ডেটা সায়েন্স ও এআই পড়ানো শুরু করেছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ওপেনএআই-এর মতো সংস্থার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তবে যে দ্রুততায় বিশ্বজুড়ে এআই থাবা বসাচ্ছে, সেই তুলনায় ভারতের প্রস্তুতির গতি যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই আদতে কোনো হুমকি নয়, বরং এটি প্রযুক্তির একটি বিবর্তন। আইটি খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, ফার্মা এবং অটোমোবাইল শিল্পেও এআই-এর মাধ্যমে নতুন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই রূপান্তরের সুফল পেতে হলে শুধুমাত্র লোক দেখানো কোর্স নয়, বরং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে এআই-বান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। সরকারের বর্তমান উদ্যোগগুলোর সঠিক পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ তৈরির ওপর জোর দিলেই আগামী দিনে ডিজিটাল কর্মসংস্থানের লড়াইয়ে ভারত এগিয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *