ভোটের ঠিক আগেই এসআইআর মামলায় স্বস্তি, ৭ এপ্রিলের মধ্যে মিটবে ভোটার ভাগ্য

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে হাতে মাত্র তিন সপ্তাহ সময় বাকি। ঠিক এই পরিস্থিতিতে বিবেচনাধীন ভোটারদের ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে বড় আপডেট দিল সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআর তালিকায় থাকা ভোটাররা আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, সেই জট কাটতে চলেছে দ্রুত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত বিবেচনাধীন ভোটারের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো বৈধ ভোটারের অধিকার যেন কোনোভাবেই খর্ব না হয়।
এসআইআর মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ করে মামলার সমাধান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৪৭ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি থাকা সমস্ত কেস আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের আবেদনের শুনানির জন্য গত ২০ মার্চ একটি অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার থেকেই এই ট্রাইব্যুনাল পুরোদমে কাজ শুরু করবে।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী আশ্বস্ত করেছেন যে, নথির সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। রাজ্য সরকারের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ট্রাইব্যুনালের প্রাক্তন বিচারপতিদের কমিশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি তুললে আদালত তা খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, বিচারপতিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই এবং এই ধরনের বিশেষ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত বা পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ নেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কমিশন কোনোভাবেই বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না।
ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ফর্ম ৬’ নিয়ে আদালতে দীর্ঘ বিতর্ক চলে। বিপুল পরিমাণে ফর্ম ৬ জমা পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলে কমিশন জানায়, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যে কেউ আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন যে, নিছক অনুমানের ভিত্তিতে কোনো অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। নিয়ম অনুযায়ী কমিশন প্রতিটি আবেদনের সত্যতা যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেবে। যদি কারও কোনো নাম নিয়ে আপত্তি থাকে, তবে তিনি ‘ফর্ম ৭’ জমা দিয়ে তার প্রতিবাদ করতে পারবেন।
আদালত আরও জানিয়েছে, যদি কোনো বৈধ ভোটার প্রযুক্তিগত বা আইনি জটিলতার কারণে এই নির্দিষ্ট নির্বাচনে ভোট দিতে নাও পারেন, তবে তার অর্থ এই নয় যে তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যাতে প্রকৃত নাগরিকরা ভোটের সুযোগ পান। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে মামলার পরবর্তী শুনানির সময়ও কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে। ৭ এপ্রিলের পরিবর্তে আগামী ৬ এপ্রিল বিকেল ৪টায় সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যাতে ওই দিন রাত ১২টার মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করা যায়।