ইএমআই কি মধ্যবিত্তের দুঃস্বপ্ন? ঋণের ফাঁদে হারিয়ে যাচ্ছে রাতের ঘুম ও মানসিক শান্তি

বর্তমান ভোগবাদী সমাজে বুদ্ধিমত্তা বা সংস্কৃতির চেয়েও একজনের সামাজিক মর্যাদা নির্ধারিত হচ্ছে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া ইএমআই-এর অঙ্ক দিয়ে। আপাতদৃষ্টিতে কিস্তিতে পণ্য কেনা আশীর্বাদ মনে হলেও, এটি মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে এক দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক কারাগারে বন্দি করে ফেলছে। অল্প বয়সে বাড়ি বা গাড়ির বিলাসিতা উপভোগের তাড়না সাধারণ মানুষকে এমন এক চক্রে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে মাসের শুরুতেই বেতনের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে ঋণের কিস্তি মেটাতে। ফলে সামান্য শারীরিক অসুস্থতা বা কর্মক্ষেত্রে সামান্য জটিলতাও পুরো পরিবারের মানসিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঋণগ্রস্ত এই জীবনযাত্রার বিপরীতে যারা নিজেদের আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন, তারা এক অনন্য মানসিক স্বাধীনতা উপভোগ করেন। হয়তো তাদের কাছে আধুনিক দামি গাড়ি বা বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নেই, কিন্তু মাস শেষে তাদের কোনো দেনার দায়ভার বইতে হয় না। এই মানসিক প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাস কোনো বিলাসিতা দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক মন্দা বা হঠাৎ চাকরি হারানোর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও এই ঋণমুক্ত মানুষেরা অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকেন, কারণ তারা বিলাসিতার চেয়ে প্রয়োজনীয়তাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
প্রকৃত সুখ আসলে ঋণের বোঝায় এসি ঘরে নির্ঘুম রাত কাটানোর মধ্যে নেই, বরং সাধারণ পাখার বাতাসে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর মধ্যে নিহিত। প্রতিবেশী বা সহকর্মীর সঙ্গে অহেতুক প্রতিযোগিতায় নেমে সামর্থ্যের বাইরে ঋণ নেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। মোবাইল বা পোশাকের মতো অনাবশ্যক জিনিসের জন্য ইএমআই নেওয়া মানুষকে এক হতাশাজনক চোরাবালিতে ফেলে দেয়। তাই বর্তমানের এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার যুগে প্রকৃত জয়ী তিনিই, যিনি ঋণের ফাঁদ এড়িয়ে নিজের আয়ের মধ্যে জীবনকে পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন।