বহরমপুরে অধীর চৌধুরীর মনোনয়ন ঘিরে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি, তৃণমূল ও কংগ্রেসের সংঘর্ষে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কেন্দ্র এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা প্রবীণ রাজনীতিক অধীর রঞ্জন চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে পরিস্থিতি চরম অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। তৃণমূল ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং হাতাহাতির জেরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বহরমপুর জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে পৌঁছেছে।
মনোনয়ন কেন্দ্রের সামনে অধীর চৌধুরী পৌঁছানো মাত্রই সেখানে উপস্থিত তৃণমূলের একদল কর্মী-সমর্থক তাকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা স্লোগান দেন কংগ্রেস কর্মীরাও, যার ফলে উত্তেজনার পারদ দ্রুত চড়তে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই উভয় পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় যা পরে শারীরিক সংঘর্ষ ও তুমুল ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত কড়া পুলিশি ঘেরাটোপে অধীর চৌধুরীকে মনোনয়ন কেন্দ্রের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিদায়ী সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের ‘গুন্ডাবাহিনী’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মনোনয়ন কেন্দ্রের সামনে প্ররোচনা দিয়েছে এবং অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তার দাবি, কংগ্রেস কর্মীরা ধৈর্য দেখিয়েছেন বলেই বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে বলেই এখন পেশিশক্তির ওপর ভর করে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় এই ঘটনার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তার দাবি, বহরমপুরে অধীর চৌধুরী এখন এক অতীত অধ্যায় এবং নিজের হারানো রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতেই তিনি এই ‘নাটক’ সাজিয়েছেন। তৃণমূল নেতার মতে, খবরের শিরোনামে থাকা এবং সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার লক্ষ্যেই অধীর চৌধুরী নিজের কর্মীদের দিয়ে এই অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।
বহরমপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র জেলা জুড়ে এখন চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের শুরুতেই দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের এই সংঘাত আগামী দিনে ভোটযুদ্ধের গতিপ্রকৃতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।