হোরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বৈঠকে ভারতসহ ৩০ দেশ

ইরান ও ইজরায়েল সংঘাতের আবহে হোরমুজ প্রণালীতে জলপথ রুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। সম্প্রতি এই সংকটের সমাধানে ও নিরাপদ সমুদ্র পরিবহন নিশ্চিত করতে ব্রিটেনের উদ্যোগে আয়োজিত ৩০টি দেশের একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। মূলত পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ইরানের সাম্প্রতিক কড়াকড়ির ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্মেলনে ডিজিটাল মাধ্যমে অংশ নিয়ে বিদেশ সচিব সাফ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে অবাধ ও নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পক্ষে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ভারত সরকার হোরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়া ভারতের জ্বালানি আমদানির প্রধান উৎস হওয়ায় এই অঞ্চলের অস্থিরতা সরাসরি দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত ইতিমধ্যে ইরানসহ অন্যান্য প্রভাবশালী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন কেন্দ্র। তবে ভারতের নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গত কয়েক দিনে ভারতীয় পতাকাবাহী ছয়টি জাহাজ হোরমুজ প্রণালী নিরাপদেই অতিক্রম করতে পেরেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করে ভারত সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমিত করে আলাপ-আলোচনার পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি উন্মুক্ত রাখা এবং সমুদ্রপথে সন্ত্রাস রুখতে ভারতের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।