মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাত, ইরান ও ইরাকের নিশানায় ইজরায়েলসহ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে ইজরায়েল ও কুয়েতের ওপর একযোগে মিসাইল হামলা চালাল ইরান। শুক্রবার এই হামলার জেরে সমগ্র আরব বিশ্বে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের দিক থেকে ধেয়ে আসা একাধিক মিসাইল রুখতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই ঘটনা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সরাসরি সংঘাতকে এক ভয়াবহ উচ্চতায় নিয়ে গেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
ইজরায়েলের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্র কুয়েতকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে তেহরান। কুয়েতি সেনা সূত্রে খবর, ইরান থেকে ছোঁড়া ড্রোন ও মিসাইল তাদের ভূখণ্ডে আছড়ে পড়েছে। কুয়েত সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে এবং তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ক্রমাগত জবাব দিচ্ছে। একের পর এক এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এখন চরম সংকটের মুখে।
একদিকে যখন আকাশপথে হামলা চলছে, অন্যদিকে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘সারায়া আউলিয়া আল-দাম’ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরাক ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে অন্তত ২৩টি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। কয়েক ডজন ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই সিরিজ হামলার দায় স্বীকার করে তারা জানিয়েছে, ইরাকে ইসলামি প্রতিরোধের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ। এর ফলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটন থেকে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লেও এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির মাঝেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। মার্কিন মুখপাত্র পিগট জানিয়েছেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেও ট্রাম্প তেহরানের সাথে টেবিলে বসতে প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়েছে, তারা তাদের লক্ষ্যপূরণ না হওয়া পর্যন্ত চাপের রাজনীতি থেকে পিছু হটবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর কৌশল আদতে ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির প্রয়াস। তবে ইজরায়েল ও কুয়েতের ওপর সরাসরি মিসাইল বর্ষণ পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। বর্তমান অবস্থায় কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত, যা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য এক অশনি সংকেত।