শুভেন্দুর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল, দুই কেন্দ্রে চড়ছে পারদ

রাজ্যের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তপ্ত আবহে এবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে গুরুতর অভিযোগ জমা দিল তৃণমূল কংগ্রেস। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—এই দুই হেভিওয়েট কেন্দ্রে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগে সরব হয়েছে শাসকদল। বুধবার তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন কমিশনের কাছে দুটি পৃথক চিঠি পাঠিয়ে শুভেন্দুর মনোনয়ন বাতিলের জোরদার দাবি জানিয়েছেন।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রথম চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শন করছেন। শাসকদলের দাবি, তিনি প্রকাশ্যেই কাশ্মীরের মতো পরিস্থিতি তৈরি করার হুমকি দিচ্ছেন এবং রাজ্যের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের নাম করে মানসিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তৃণমূলের মতে, এই ধরনের আচরণ জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের চরম পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই তাকে অবিলম্বে শোকজ করে নির্বাচনে লড়ার অযোগ্য ঘোষণার আর্জি জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রশাসনিক নিয়মভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, ভবানীপুরে মনোনয়ন পেশের সময় রিটার্নিং অফিসারের কক্ষে প্রার্থীসহ সর্বাধিক পাঁচ জনের প্রবেশের নিয়ম থাকলেও শুভেন্দু সেই সীমা লঙ্ঘন করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সেই ঘটনার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তথ্যপ্রমাণ হিসেবে দাখিল করেছে শাসকদল। তাদের অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত লোকসংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
এই ঘটনায় রিটার্নিং অফিসার ও সাধারণ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ডেরেক ও’ব্রায়েনের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা চোখের সামনে নিয়ম ভাঙতে দেখেও তা রুখতে কোনও সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এই নীরবতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থার দাবিও তোলা হয়েছে।
শেষমেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে এই গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করার আর্জি জানিয়েছে তৃণমূল। চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে নিয়মের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন এবং বিধিভঙ্গের কারণে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন বাতিল করা বাঞ্ছনীয়। এই চিঠির অনুলিপি কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। ভোটের আগে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের জেরে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ এখন তুঙ্গে।