মালদহ কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ, কমিশনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে জারি হল কড়া ফতোয়া

মালদহ কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ, কমিশনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে জারি হল কড়া ফতোয়া

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে মালদহের কালিয়াচকে বিচারক ঘেরাওয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম তৎপরতা শুরু করল নির্বাচন কমিশন। কালিয়াচকের ওই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিইও দপ্তর। কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, নির্বাচনের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনও প্রকার আপস করা হবে না। বৃহস্পতিবার থেকেই এই কড়া নির্দেশিকা কার্যকর করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, মালদহের ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে সমস্ত ধরনের জমায়েতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনোভাবেই যাতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য জেলা প্রশাসনগুলিকে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার বা কর্মসূচির ক্ষেত্রেও এখন থেকে বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরে প্রবেশাধিকার নিয়েও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। কালিয়াচকের ঘটনার আঁচ যাতে কলকাতায় কমিশনের সদর দপ্তরে না পৌঁছায়, তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। পরিচয়পত্র যাচাই না করে কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি আগাম অনুমতি ছাড়া কমিশনের দপ্তরে যে কোনও ধরনের প্রতিনিধিদের প্রবেশের ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কমিশনের আধিকারিকরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মালদহের কালিয়াচকে ঠিক কী ঘটেছিল এবং নিরাপত্তার কোথায় ফাঁক ছিল, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোট চলাকালীন যাতে সাধারণ ভোটার বা বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কোনও প্রকার হেনস্থার শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। কমিশনের এই আচমকা কড়াকড়িতে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। মালদহের ঘটনাটি কমিশনের কাছে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে। জমায়েতের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই কড়াকড়ির ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোটের সময় অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের ওপর দায় বর্তাবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি ভয়হীন পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন এখন প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ফেলছে। আগামী দিনগুলোতেও এই নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও মজবুত করা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *