ব্যক্তিগত আক্রমণে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোর কড়া জবাব

ব্যক্তিগত আক্রমণে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোর কড়া জবাব

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে রাজি না হওয়ায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ম্যাক্রোর স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রো তাঁর স্বামীর ওপর শারীরিক নির্যাতন করেন। ২৫ বছরের বড় স্ত্রীর সঙ্গে ম্যাক্রোর সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের এই কুরুচিকর মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্সের সামরিক সমর্থন না পাওয়াতেই ট্রাম্প এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইম্যানুয়েল ম্যাক্রো। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ট্রাম্পের কথা ও আচরণ কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে মানায় না। ট্রাম্পের ভাষা মোটেও মার্জিত নয় এবং তিনি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি কথা বলেন। ম্যাক্রো আরও যোগ করেন যে, রাষ্ট্রনেতা হিসেবে ট্রাম্পের আরও গম্ভীর হওয়া উচিত এবং প্রতিদিন নিজের বক্তব্যের পরিবর্তন করা তাঁর নিম্নমানের রুচির পরিচয় দেয়।

আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অভিযানে ফ্রান্সের ভূমিকা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। ইরান বিরোধী অভিযানে ফ্রান্স কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করলেও, সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে বা হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার মিশনে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে। ম্যাক্রোর এই অনড় অবস্থানের কারণে হোয়াইট হাউস অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, যার প্রতিফলন দেখা গেছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত আক্রমণে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর বয়স এবং তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ট্রাম্পের এই কটাক্ষ দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগেও ব্রিজিত ম্যাক্রোকে নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন ইম্যানুয়েল ম্যাক্রো। এবার সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আসা এমন অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে ম্যাক্রো বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *