ভারত মহাসাগরে অপ্রতিরোধ্য ভারত সুপারসোনিক মিসাইল সজ্জিত যুদ্ধজাহাজ তারাগিরি আজ থেকে নৌসেনায়

ভারত মহাসাগরে অপ্রতিরোধ্য ভারত সুপারসোনিক মিসাইল সজ্জিত যুদ্ধজাহাজ তারাগিরি আজ থেকে নৌসেনায়

ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে আরও কয়েক গুণ শক্তিশালী করতে আজ নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস তারাগিরি’। বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং নৌসেনার শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই যুদ্ধজাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করা হবে। সুপারসোনিক মিসাইল ও স্টিলথ প্রযুক্তিতে ঠাসা এই রণতরী যুক্ত হওয়ার ফলে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামরিক দাপট কয়েক গুণ বাড়বে, যা নিশ্চিতভাবেই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও চীনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রজেক্ট ১৭-এ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ‘নীলগিরি’ শ্রেণির এই চতুর্থ জাহাজটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। প্রায় ৬ হাজার ৬৭০ টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজটি মুম্বাইয়ের মাজগাও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (এমডিএল) দ্বারা নির্মিত। আত্মনির্ভর ভারতের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই রণতরীর ৭৫ শতাংশের বেশি সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি দেশীয় শিল্পসংস্থাগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে। গত বছরের ২৮ নভেম্বর এই জাহাজটি নৌবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল এমডিএল কর্তৃপক্ষ, যা আজ থেকে পূর্ণ শক্তিতে কাজ শুরু করবে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে আইএনএস তারাগিরি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শত্রুদেশের রাডারে সহজে ধরা না পড়ে অর্থাৎ এতে রয়েছে আধুনিক ‘স্টিলথ’ ক্ষমতা। জাহাজটি ডিজেল এবং গ্যাস (সিওডিওজি) উভয় মাধ্যমেই চলতে সক্ষম। এর প্রধান শক্তির উৎস হলো ঘাতক সুপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাঝারিপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইল। এছাড়া এতে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধপ্রযুক্তি, যা সমুদ্রের তলদেশের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় পারদর্শী।

রণতরীটির যুদ্ধ পরিচালন ব্যবস্থা বা ‘কমব্যাট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ এতটাই উন্নত যে, সেনাসদস্যরা মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো বিপদের পালটা জবাব দিতে পারবেন। পাশাপাশি এর বহুমুখী ব্যবহারের দিকটিও উল্লেখযোগ্য। শুধুমাত্র যুদ্ধের ময়দানেই নয়, এটি মানবিক সহায়তা প্রদান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজেও সমানভাবে দক্ষ। ভারতের পূর্ব উপকূলের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে এই জাহাজের মোতায়েন নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বিশাখাপত্তনমের সমুদ্র সৈকতে আজ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং নিজেও অত্যন্ত উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। এক বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, তারাগিরির অন্তর্ভুক্তি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রকৌশলগত সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। ভারত মহাসাগরে একটি নির্ভরযোগ্য এবং ‘আত্মনির্ভর’ শক্তিরূপে ভারতের উত্থান এখন সময়ের দাবি, যা এই শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজটির মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে আইএনএস তারাগিরি বর্তমান সময়ের আধুনিক নৌযুদ্ধের জন্য একটি আদর্শ হাতিয়ার। সমুদ্রের বুকে এটি যেমন অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে, তেমনই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটি ভারতের সামরিক শক্তির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। আজকের এই দিনটি ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *