বিস্ফোরক ইনিংস খেলেও বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে অভিষেক শর্মা

বিস্ফোরক ইনিংস খেলেও বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে অভিষেক শর্মা

আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেও স্বস্তিতে নেই সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের তারকা ওপেনার অভিষেক শর্মা। কেকেআর-এর বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেন্সে বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জয়ের ভিত গড়ে দিলেও, মাঠের অসংযত আচরণের কারণে বড়সড় জরিমানার কবলে পড়লেন এই তরুণ ক্রিকেটার। ম্যাচ শেষে বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইপিএল কোড অফ কন্ডাক্ট লঙ্ঘনের দায়ে অভিষেকের ম্যাচ ফির একটি বড় অংশ কেটে নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ইডেনে কেকেআর-এর বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন অভিষেক। মাত্র ২১ বলে ৪৮ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি, যার মধ্যে ছিল ৪টি ছক্কা ও ৪টি চারের মার। তবে মাঠের ভেতরে তাঁর পারফরম্যান্স যতটাই উজ্জ্বল ছিল, আচরণ ছিল ততটাই বিতর্কিত। খেলার একটি বিশেষ মুহূর্তে তিনি অভদ্র ভাষা ব্যবহার করেন যা স্টাম্প মাইকে ধরা পড়ে। ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিসিসিআই-এর শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি অভিষেকের এই আচরণকে ‘লেভেল-১’ পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে। আইপিএল কোড অফ কন্ডাক্টের ২.৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাঁর ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে আইপিএলের নিয়ম অনুসারে, প্রতিটি ম্যাচে প্রথম একাদশে থাকা ক্রিকেটাররা ম্যাচ পিছু ৭.৫ লাখ টাকা করে পারিশ্রমিক পান। এই অঙ্কটি নিলামের দামের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

হিসাব অনুযায়ী, কেকেআর ম্যাচে খেলার জন্য অভিষেক শর্মার প্রাপ্য ছিল ৭.৫ লাখ টাকা। কিন্তু ২৫ শতাংশ জরিমানা হওয়ার ফলে তাঁর পারিশ্রমিক থেকে ১,৮৭,৫০০ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলস্বরূপ, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরেও এই ম্যাচ থেকে তাঁর পকেটে ঢুকবে মাত্র ৫,৬২,৫০০ টাকা। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অভিষেকের প্রোফাইলে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও যুক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তাঁর ওপর বড় কোনো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিল।

উল্লেখ্য, অভিষেকের আউটের ধরন নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বরুণ চক্রবর্তীর বলে একটি ক্যাচ আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে মাঠেই বিরক্তি দেখান তিনি। সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাধারণ মানের পারফরম্যান্সের পর আইপিএলের প্রথম ম্যাচেও ব্যর্থ হয়েছিলেন অভিষেক। কেকেআর ম্যাচে ছন্দে ফিরলেও মাঠের মেজাজ হারানো তাঁর কেরিয়ারে একটি নেতিবাচক দাগ ফেলে দিল।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিষেক শর্মার মতো উদীয়মান তারকারা মাঠের খেলায় যতটা মনোযোগ দিচ্ছেন, নিয়মশৃঙ্খলার প্রতিও ততটাই যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। কারণ, বিসিসিআই নিয়মের কড়াকড়িতে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মাঠে কোনো প্রকার অসভ্যতা বা আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা বরদাস্ত করা হবে না। এখন দেখার বিষয়, আগামী ম্যাচগুলোতে অভিষেক নিজের এই আগ্রাসনকে শুধু ব্যাটের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ রাখতে পারেন কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *