কাঁথিতে মেজাজ তুঙ্গে অভিষেকের, পারফরম্যান্স না দেখালে ছাঁটাইয়ের হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতাদের

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কাঁথি সাংগঠনিক জেলার দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্ধশ্বাস বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা নির্বাচনে এই জেলায় দলের আশানুরূপ ফল না হওয়ায় এবার সুর চড়িয়ে কড়া দাওয়াই দিলেন তিনি। অভিষেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলে টিকে থাকার একমাত্র মাপকাঠি হবে ‘পারফরম্যান্স’। বিশেষ করে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানদের কাজের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হবে এবং কাজে গাফিলতি ধরা পড়লে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপ নিতেও দল দ্বিধা করবে না।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত কাঁথির ৮টি বিধানসভা আসনেই জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন অভিষেক। গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলের একাধিক আসনে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও, এবার সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে দাঁত ফোটাতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। দলীয় কোন্দল ও মান-অভিমান ভুলে চণ্ডীপুর বা খেজুরির মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বুথ ভিত্তিক দুর্বলতা খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অভিষেকের সাফ বার্তা, প্রার্থীর ব্যক্তিগত পছন্দের চেয়ে দলের জয়ই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে আগামী ২০ থেকে ২৫ দিন নিচুতলার কর্মীদের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লোকসভা ভোটে পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিষেক মেনে নেন যে দলের ভেতরেই সাংগঠনিক খামতি রয়েছে। তাই এবার শুধু অঞ্চল সভাপতি নয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে চাইছে তৃণমূল ভবন। শুভেন্দুর খাসতালুকে দাঁড়িয়ে অভিষেকের এই ‘ক্লিন আপ’ ড্রাইভ ও কড়া হুঁশিয়ারি শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।