বিজেপির অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার আসলে জুমলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পাল্টা প্রচারে তৃণমূল

রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক লড়াই এবার সরাসরি অন্দরমহলে পৌঁছে দিতে কোমর বেঁধে নামছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিসেবে বিজেপির প্রস্তাবিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে নেহাতই ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ বা জুমলা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রচারে নামানো হচ্ছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পগুলোর সুফল তুলে ধরার পাশাপাশি বিজেপির তথাকথিত ‘আগ্রাসন ও মিথ্যাচার’ নিয়ে সাধারণ মহিলাদের সতর্ক করাই এই প্রচারের মূল উদ্দেশ্য।
ইতিমধ্যেই কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতার মহারাষ্ট্র নিবাস হলে মেয়র পারিষদ মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায় ও বরো চেয়ারম্যান চৈতালী চট্টোপাধ্যায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নেত্রীদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনা করেন। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমেই পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতি ও বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অসারতার বার্তা।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ‘ল্যাডলি বহেনা’ বা ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো প্রকল্পগুলো নানা কঠিন শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ। বাড়িতে ফ্রিজ, রঙিন টিভি বা স্মার্টফোন থাকলেও অনেকে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিপরীতে, পশ্চিমবঙ্গের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ বা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ কোনো শর্ত ছাড়াই পাচ্ছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে বোঝান যে, বিজেপির অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কেবলই ভোট বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল।
পাশাপাশি বিহার ও মধ্যপ্রদেশের উদাহরণ টেনে তৃণমূল দাবি করেছে, ভোট মিটে গেলেই বিজেপি মহিলাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে। বাংলার মহিলারা যাতে কোনোভাবেই বিভ্রান্ত না হন, সেজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৯৮টি সামাজিক প্রকল্পের সাফল্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ঘাসফুল শিবির। ২০২১ সালের নির্বাচনের মতো এবারও নারীশক্তির উপর ভরসা করেই বিজেপি-র ‘মিথ্যাচার’ মোকাবিলা করতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল।