হরমুজ প্রণালী সচল করতে বিশ্বমঞ্চে কড়া বার্তা ভারতের

হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক মহলে সুর চড়ালো ভারত। বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে দিল্লি। সম্প্রতি ব্রিটেনের উদ্যোগে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক বৈঠকে প্রায় ৬০টি দেশের উপস্থিতিতে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সংঘাতের জেরে একমাত্র ভারতই তার নাগরিকদের হারিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ যাতায়াতের পক্ষে জোরালো সওয়াল করা হয়েছে।
ভারত মূলত পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর ওপর জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরাসরি চাপের মুখে পড়েছে ভারতীয় অর্থনীতি। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জলপথে আটকে পড়া জাহাজে কাজ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত তিন জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। ভারত মনে করে, আলোচনা এবং কূটনীতিই বর্তমান অশান্তি মেটানোর একমাত্র কার্যকর পথ।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন দিল্লি। বর্তমানে প্রায় এক কোটি ভারতীয় উপসাগরীয় দেশগুলিতে কর্মরত রয়েছেন। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত আট জন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বাকিরা নিরাপদ আছেন এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
ইতিমধ্যেই ইরান থেকে ২০৪ জন ভারতীয়কে আজারবাইজান সীমান্ত দিয়ে সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই উদ্ধারকাজে সহযোগিতার জন্য আজারবাইজান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারত। নিজেদের নাগরিকদের প্রাণরক্ষা এবং দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ সুনিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ সচল দেখতে মরিয়া দিল্লি। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় না থাকলে ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ যে দীর্ঘতর হবে, তা বলাই বাহুল্য।