১২৫ বছরের পুরনো পিপল গাছকে ঘিরে বিস্ময়কর চারতলা বাড়ি, পরিবেশ রক্ষার এক অনন্য নজির

১২৫ বছরের পুরনো পিপল গাছকে ঘিরে বিস্ময়কর চারতলা বাড়ি, পরিবেশ রক্ষার এক অনন্য নজির

পরিবেশ রক্ষার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের কেশরওয়ানি পরিবার। ১২৫ বছরের পুরনো একটি বিশাল পিপল (অশ্বত্থ) গাছকে না কেটেই তার চারপাশে তৈরি করা হয়েছে একটি চারতলা বাড়ি। ১৯৯৪ সালে প্রয়াত ডক্টর মতিলাল কেশরওয়ানি এই বাড়ির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। শৈশব থেকে যে গাছের ছায়ায় বড় হয়েছেন, সেই গাছকে রক্ষার তাগিদ থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আজ সেই বিশাল বৃক্ষটি পরিবারের একজন জীবন্ত সদস্যের মতো ডাইনিং রুম থেকে শোবার ঘর পর্যন্ত প্রতিটি স্থানে সগৌরবে বিরাজ করছে।

পনাগর এলাকায় অবস্থিত এই অনন্য ট্রি-হাউসটি প্রকৌশল বিদ্যার এক বিস্ময়। বাড়িটি তৈরির সময় গাছের কোনো ডাল কাটা হয়নি, বরং জানলা ও দেওয়ালের ফাঁক দিয়ে ডালপালাগুলোকে স্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেওয়া হয়েছে। তিনতলা বিশিষ্ট এই ইমারতের নিচে রয়েছে গাছের মূল এবং উপরের প্রতিটি তলায় ছড়িয়ে আছে এর শাখা-প্রশাখা। পরিবারটির মতে, গাছটি তাদের ২৪ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বাড়ির তাপমাত্রা প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া বাড়ির নিচে একটি মন্দিরও রয়েছে যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পুজো দিতে আসেন।

পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি এই বাড়ির নেপথ্যে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস। হিন্দু ধর্মানুযায়ী পিপল গাছ অত্যন্ত পবিত্র, তাই পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত এর যত্ন ও পুজো করেন। কেশরওয়ানি পরিবার এই বার্তার প্রচার করতে চায় যে, কোনো কিছু ধ্বংস করা সহজ কিন্তু তা রক্ষা করে নতুন কিছু সৃষ্টি করাই প্রকৃত সার্থকতা। গাছ ও মানুষের সহাবস্থানের এই ইকো-ফ্রেন্ডলি মডেলটি বর্তমানে সারা শহরে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *