অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে দেউলিয়া পাকিস্তান ফের আইএমএফের দ্বারে

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান আবারও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের কাছে হাত পাততে চলেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কার্যত ধসে পড়েছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির সাধারণ মানুষের ওপর, যার ফলে হু হু করে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি।
আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব ওয়াশিংটনে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন। এই সফরে তিনি পাকিস্তানের শোচনীয় আর্থিক অবস্থার চিত্র তুলে ধরবেন এবং বড় অঙ্কের ঋণের আবেদন জানাবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তানের অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি অর্থের জরুরি প্রয়োজন। এই সহায়তা না পেলে দেশটির অবস্থা আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান ও সংলগ্ন অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ দিয়ে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানি আমদানিতে পাকিস্তানকে অতিরিক্ত চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ ও কৃষিকাজের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে খাদ্যদ্রব্য। বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে টান পড়ায় পাকিস্তান এখন চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
গত ১১ মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার যে পাকিস্তান আইএমএফের কাছে বেল-আউট প্যাকেজের জন্য আবেদন করছে। এর আগে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার সময়েও দেশটি ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA), আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে যাতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোকে জরুরি নগদ সহায়তা এবং কম সুদে ঋণ দিয়ে সাহায্য করা যায়।
আইএমএফ সতর্ক করেছে যে, এই বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা কেবল জ্বালানি বাজার নয়, বরং খাদ্য ও সারের দাম বাড়িয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিকে শ্লথ করে দিচ্ছে। সার ও কৃষিপণ্যের দাম বাড়লে পাকিস্তানে বড় ধরনের খাদ্য সংকট ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এই সংকটকে কেবল আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে না দেখে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।