সফলতা দেখে হিংসা করছে সবাই, কেকেআর অধিনায়ক রাহানের নিশানায় সমালোচকরা

আইপিএলের ১৯তম আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে ৬৫ রানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মুখ খুললেন কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে। দলের টানা দ্বিতীয় হারের পর নিজের ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ও অ্যাপ্রোচ নিয়ে ওঠা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। রাহানের দাবি, যারা তাকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলছেন, তারা হয়তো খেলা দেখছেন না অথবা নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন।
এদিন হায়দরাবাদের দেওয়া ২২৭ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৮ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রাহানে। নিজের ২০০তম আইপিএল ম্যাচে ১০ বল খেলে মাত্র ৮০ স্ট্রাইক রেটে রান করায় ক্রিকেট মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রাহানে স্পষ্ট জানান, ২০২৩ সাল থেকে পাওয়ার প্লে-তে তার স্ট্রাইক রেট ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে অন্যতম সেরা। একমাত্র অভিষেক শর্মা ছাড়া আর কেউ তার চেয়ে দ্রুত গতিতে রান তোলেননি।
অধিনায়ক রাহানের মতে, তার উত্তরোত্তর উন্নতি অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। তিনি বলেন, “আমার সাফল্য দেখে অনেকেই ঈর্ষান্বিত। আমার খেলা নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা হলেও আমি বিচলিত নই, বরং খুশি যে তারা অন্তত আমাকে নিয়ে কথা বলছে।” তিনি আরও যোগ করেন, যারা মাঠের পরিস্থিতি না বুঝে মন্তব্য করছেন, তারা ক্রিকেটের ব্যাকরণ সম্পর্কে অবগত নন। ওপেনিং জুটিতে ফিন অ্যালেনের সাথে তার বোঝাপড়া বেশ ভালো বলেও তিনি দাবি করেন।
ম্যাচের কাটাছেঁড়া করতে গিয়ে রাহানে হারের প্রধান কারণ হিসেবে বড় পার্টনারশিপের অভাবকে চিহ্নিত করেছেন। মাঝের ওভারগুলোতে থিতু হওয়া ব্যাটাররা ইনিংস টেনে নিয়ে যেতে না পারায় ১৬১ রানেই গুটিয়ে যায় কেকেআরের ইনিংস। ১২০ রানে ৩ উইকেট থাকা অবস্থা থেকে মাত্র ৪১ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেট হারানোই দলের পরাজয় নিশ্চিত করে। তবে বোলাররা শেষ দিকে দারুণভাবে হায়দরাবাদকে আটকে রাখায় তাদের প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক।
টানা দুই ম্যাচে হারের পর কেকেআর শিবিরে এখন পুনর্মূল্যায়নের পালা। রাহানে জানিয়েছেন, আগামী ৩-৪ দিনের বিরতিতে তারা দলের কম্বিনেশন এবং একজন বাড়তি ব্যাটার খেলানোর বিষয়টি নিয়ে ভাববেন। তবে এখনই খুব বেশি মানসিক চাপে থাকতে রাজি নন তিনি। ঘরের মাঠে আসন্ন ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন নাইট শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। আগামী ৬ এপ্রিল পাঞ্জাব কিংসের মুখোমুখি হবে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা।