মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলা রুখতে সক্ষম ইরান, এখনও অটুট তেহরানের মিসাইল ও ড্রোন ভাণ্ডার

টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিধ্বংসী সামরিক অভিযান চললেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনও অক্ষত রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, তেহরানের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা সত্ত্বেও তাদের সামরিক শক্তি পুরোপুরি স্তিমিত করা সম্ভব হয়নি। এই তথ্য মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা সাফল্যের দাবিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত পাঁচ সপ্তাহে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশটির প্রায় অর্ধেক মিসাইল লঞ্চার এবং হাজার হাজার ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ বা আত্মঘাতী ড্রোন এখনও সক্রিয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ বা দুর্গম এলাকায় লুকিয়ে রাখা এই লঞ্চারগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে ইরান এখনও এই অঞ্চলে বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে।
ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ মিসাইল ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য অংশও বর্তমানে সুরক্ষিত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ বা বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই মিসাইলগুলো ইরানের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। যদিও মার্কিন সামরিক অভিযান জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, তবে উপকূলীয় এই মিসাইল ব্যবস্থাগুলো ধ্বংস করার দিকে তারা সেভাবে নজর দেয়নি বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তাদের সামরিক পরিকাঠামো পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। তিনি একে আমেরিকার একটি ‘নির্ধারক’ জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানি নেতাদের একটি বড় অংশ খতম হয়েছে এবং তাদের অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো এখন ধ্বংসের মুখে।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র অধীনে ইরানের ভেতরে ১২ হাজার ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় ইরানের সামরিক কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি এবং বহু শীর্ষ নেতার মৃত্যু হলেও, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডারের যে বিশাল পরিমাণ অবশিষ্ট রয়েছে, তা ভবিষ্যতে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।