ইউএনএসসিতে ধাক্কা খেল আরব রাষ্ট্রগুলো, হোরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযানের প্রস্তাবে রাশিয়া চীন ও ফ্রান্সের ভেটো

ইউএনএসসিতে ধাক্কা খেল আরব রাষ্ট্রগুলো, হোরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযানের প্রস্তাবে রাশিয়া চীন ও ফ্রান্সের ভেটো

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) হোরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে সামরিক অভিযানের প্রস্তাব ঘিরে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বাহরাইন ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থিত এই প্রস্তাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া, চীন এবং ফ্রান্স এই প্রস্তাবে সমর্থন দিতে অস্বীকার করায় আরব দেশগুলোর এই উদ্যোগ কার্যত থমকে গিয়েছে।

মূলত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে সদস্য দেশ ও বহুজাতিক নৌবাহিনীকে ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা’ গ্রহণের অনুমতি চেয়েছিল বাহরাইন। কিন্তু রাশিয়া ও চীন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা সামরিক বলপ্রয়োগের অনুমতির পক্ষে নয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও এই সামরিক বিকল্পকে ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানীয় রিভল্যুশনারি গার্ড ও তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান এই কৌশলগত সমুদ্রপথটি বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। হোরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে শিপিং ও বিমার খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি কাতারের মতো দেশগুলো উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।

অবরোধের পাশাপাশি ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হাজার হাজার পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাহরাইনের বিদেশমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি ইরানের এই কর্মকাণ্ডকে ‘আগ্রাসী’ ও ‘পূর্ব পরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছেন। এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধের ফলে ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় শীতল হতে শুরু করেছে। বর্তমানে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে ওমান বা কাতারের পরিবর্তে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মতো দেশগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তবে সৌদি আরব ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলোর দাবি, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হোরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানি হামলা বন্ধের বিষয়টি আবশ্যিক শর্ত হিসেবে থাকা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *