হোরমুজ সংকটে প্রাণ হারালেন ৩ ভারতীয় নাবিক, বৈঠকে বিশ্বকে কড়া বার্তা দিল ভারত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হোরমুজ প্রণালী’। এই সংকটের ভয়াবহতা নিয়ে ব্রিটেনের উদ্যোগে আয়োজিত ৬০টি দেশের এক উচ্চপর্যায়ের অনলাইন বৈঠকে যোগ দিয়ে ভারত তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বৈঠকে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি স্পষ্ট জানান, চলমান এই সংকটে এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র ভারতের নাগরিকদেরই প্রাণহানি ঘটেছে। যা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত অবস্থায় এ পর্যন্ত ৩ জন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যেখানে আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পক্ষ থেকে হোরমুজ প্রণালী প্রায় অবরুদ্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত প্রাণহানির ঘটনা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হোরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে শক্তি বা জ্বালানি নিরাপত্তা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। বিশ্বব্যাপী তেল এবং এলএনজি (LNG) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ পথটি অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের মতো আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর।
বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো উত্তেজনা প্রশমন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা। ভারত দীর্ঘকাল ধরে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে আসছে। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, পেশি প্রদর্শনের বদলে আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উদ্যোগে আয়োজিত এই ‘হোরমুজ সামিট’-এ ভারত, চীন, জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মূলত ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) এই জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ভারত এই আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে সব রাষ্ট্রকে শান্ত থাকার এবং আলোচনার মাধ্যমে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে।