পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে হনুমানের পায়ে শিকল! জানুন নেপথ্যের অলৌকিক রহস্য

ওড়িশার পুরীর বিশ্ববিখ্যাত জগন্নাথ মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ‘বেদি হনুমান’ মন্দিরের এক অদ্ভুত রীতি ভক্তদের অবাক করে। এখানে পবনপুত্রের মূর্তি সোনার শিকলে বাঁধা থাকে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন যখন জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করেন, তখন স্বয়ং শ্রীবিষ্ণু মন্দির পাহারার ভার হনুমানজিকে দিয়েছিলেন। সমুদ্রের বিশাল ঢেউ যেন মন্দিরের কোনো ক্ষতি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর প্রধান কর্তব্য।
কিংবদন্তি রয়েছে, হনুমানজি তাঁর কর্তব্য পালনে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ছিলেন। কিন্তু যখনই কোথাও ভগবান রামের নামসংকীর্তন বা স্তোত্র পাঠ হতো, তিনি সেই আকর্ষণে পাহারার স্থান ছেড়ে চলে যেতেন। ফলে পাহারাদারের অনুপস্থিতিতে সমুদ্রের নোনা জল মন্দিরে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতো। কথিত আছে, হনুমান যাতে মন্দির ছেড়ে অন্য কোথাও না যান, সেজন্যই ভগবান জগন্নাথ তাঁর পা শিকল দিয়ে বেঁধে দেন।
বর্তমানে এই মন্দিরটি ভক্তদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। দেশ-বিদেশ থেকে আসা তীর্থযাত্রীরা জগন্নাথ দর্শনের পাশাপাশি এই বেদি হনুমান মন্দিরেও ভিড় জমান। বছরের পর বছর ধরে এই শিকলবদ্ধ মূর্তির মাধ্যমেই ভগবান ও তাঁর পরম ভক্তের সেই অলৌকিক কাহিনি জীবন্ত হয়ে আছে। আজও বিশ্বাস করা হয়, শিকলবদ্ধ অবস্থাতেই বজরংবলী নীলমাধবের মন্দিরকে রক্ষা করে চলেছেন।