যুবসাথী প্রকল্পের টাকা নিয়ে বড় ঘোষণা মমতার, শীঘ্রই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ১৫০০ টাকা

রাজ্যের কর্মহীন যুবক-যুবতীদের জন্য বড় সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে খুব শীঘ্রই আর্থিক সহায়তা পৌঁছে যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। বর্তমানে এই প্রকল্পের আবেদন খতিয়ে দেখার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুত সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সূতির ছাপঘাটি কেডি হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনসভা থেকে এই ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী। দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় যুবসমাজের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, যাঁরা এই প্রকল্পে আবেদন করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই যথাযথ যাচাইয়ের পর সরকার নির্ধারিত আর্থিক সুবিধা পাবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার পরেই সভাস্থলে উপস্থিত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যুবসাথী প্রকল্পের এই অর্থ মূলত বেকার যুবক-যুবতীদের হাতখরচ হিসেবে দেওয়া হয়, যাতে তাঁদের অন্য কারও ওপর নির্ভর করতে না হয়। তিনি আরও জানান, সরকার কেবল ভাতা দিয়েই ক্ষান্ত থাকছে না, আগামী দিনে যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের আর্থিক স্বনির্ভরতা বজায় রাখাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, যারা কাজ করে তাদের বিরুদ্ধেই সমালোচনা বেশি হয়। তবে জনগণের আশীর্বাদ থাকলে কোনো বাধাই উন্নয়নের গতি রুখতে পারবে না। পাশাপাশি কন্যাশ্রী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্পের সাফল্যের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। রাজ্যের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে তাঁর ভাষণে উঠে আসে।
সভায় উপস্থিত অনেক চাকরিপ্রার্থী ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন যে তাঁরা ইতিমধ্যেই প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করেছেন, আবার কেউ দ্রুত টাকা পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন। প্রশাসনের তৎপরতায় ভোটের আগেই এই প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বানের মধ্য দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার বার্তা দেন।