পানামা খাল নিয়ে সংঘাত তুঙ্গে, মার্কিন ড্রোন বনাম চিনা রণতরী রণক্ষেত্র কি এবার সমুদ্র

বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পানামা খালকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই দুই মহাশক্তিধর দেশের মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে। একদল বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা এই স্নায়ুযুদ্ধ যে কোনো মুহূর্তে সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
আমেরিকার অভিযোগ, চিন ইচ্ছাকৃতভাবে পানামা ফ্ল্যাগড জাহাজগুলিকে তাদের বন্দরে আটকে রাখছে এবং তল্লাশির নামে অহেতুক দেরি করাচ্ছে। মার্কিন সেক্রেটারি মার্কো রুবিও এই ঘটনাকে সরাসরি ‘হ্যারাজমেন্ট’ বা হেনস্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, চিনের এই চাপ সৃষ্টির রাজনীতির ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেনে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধিতে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে চিন তল্লাশির নামে অন্তত ১২৪টি জাহাজ আটকে রেখেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই পানামা নথিভুক্ত জাহাজ। এই জাহাজগুলিকে ১ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত বন্দরে বসিয়ে রাখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি শ্লথ করে দিচ্ছে। বছরের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও মার্চ মাস থেকে জাহাজ আটকের এই হার নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন।
এই বিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পানামা খালের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ। সম্প্রতি পানামার সুপ্রিম কোর্ট হংকংয়ের দুটি সংস্থাকে স্থানীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের চুক্তি থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং পানামা সরকার নিজেই সেই বন্দরগুলির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিলেন যে, চিন গোপনে পানামা খালের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। পানামা সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েই বেজিং পালটা ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চিন অবশ্য আমেরিকার এই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। চিনা প্রশাসনের দাবি, তারা কেবল নিয়ম মেনে নজরদারি চালাচ্ছে। উল্টে তাদের অভিযোগ, আমেরিকা খোদ পানামা দখল করার ষড়যন্ত্র করছে। এমন পরিস্থিতিতে চরম উত্তেজনার মাঝেও পানামা সরকার দাবি করেছে, তারা কূটনৈতিকভাবে চিনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দুই দেশের অনড় মনোভাব বাণিজ্য যুদ্ধের মেঘকে আরও ঘনীভূত করছে।