হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড বচসার জেরে খুন হওয়া যুবকের পরিবার পেল বিচার, ১২ জনের যাবজ্জীবন

২০১৮ সালে রাজস্থানের কোটায় তুচ্ছ এক বিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল আদালত। একটি বকরি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে শুরু হওয়া বিবাদ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই ঘটনায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার দায়ে একই পরিবারের ১২ জন সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক শ্বেতা শর্মা। দণ্ডিতদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী রয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের ওপর ১৩ হাজার টাকা করে জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ৩১ আগস্ট ২০১৮ সালে। বকরি নিয়ে চলা বিবাদ মীমাংসা করতে অভিযুক্ত রমজানীর বাড়িতে গিয়েছিলেন ইস্তিয়াক হোসেন ওরফে গুড্ডু এবং তাঁর বন্ধুরা। আলোচনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে ইস্তিয়াক ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর ছুরি ও লাঠিসোঁটাসহ ধার্যালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় ইস্তিয়াককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত যুবক একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীর একমাত্র সন্তান ছিলেন।
দীর্ঘ আট বছর আইনি প্রক্রিয়া চলার পর আদালত প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রমাণের ভিত্তিতে এই রায় প্রদান করে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত রমজানী, তাঁর স্ত্রী ফরজানা এবং তাঁদের দুই পুত্রসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রয়েছেন। তুচ্ছ একটি পশুর দাম নিয়ে শুরু হওয়া ঝগড়া যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, কোটার এই ঘটনা তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ। আদালতের এই কঠোর রায় সমাজে অপরাধ দমনে একটি বড় বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।