কালিয়াচক কাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫, বাগডোগরা থেকে গ্রেফতার মূলচক্রী মোফাক্কেরুল

মালদার কালিয়াচকে বিচারকদের ঘেরাও ও হামলার ঘটনায় মূলচক্রী মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর সময় তাকে জালে তোলা হয়। এডিজি (উত্তরবঙ্গ) কে জয়রামন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতার হয়েছেন ৩৫ জন। ধৃতদের মধ্যে আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিও রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম বেঙ্গালুরুতে পালানোর ছকে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মিম (MIM) প্রার্থী হিসেবে লড়াই করা মোফাক্কেরুলই এই হিংসাত্মক ঘটনায় উস্কানি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তাকে হেফাজতে নিয়ে পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও সিআইডি।
উল্লেখ্য, বুধবার কালিয়াচক বিডিও অফিসে স্ক্রুটিনি চলাকালীন বিচারকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, খাবার ও জল ছাড়াই তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং গভীর রাতে ফেরার পথে গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে বৃহস্পতিবারই হাইকোর্টের নির্দেশে এনআইএ (NIA) তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে বিচারব্যবস্থার ওপর এমন সরাসরি আঘাতের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে উচ্চ আদালত। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিচারকদের ওপর আক্রমণ আদতে বিচারব্যবস্থার কর্তৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার শামিল।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সুরক্ষায় সিএপিএফ (CAPF) মোতায়েন করা হয়েছে। মালদা জেলা আদালতে ধৃতদের তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তপ্ত কালিয়াচকে শান্তি বজায় রাখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন।