দেবতার স্নানযাত্রার জন্য ৫ ঘণ্টা বন্ধ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এক অনন্য ঐতিহ্যের সাক্ষী কেরালা

দেবতার স্নানযাত্রার জন্য ৫ ঘণ্টা বন্ধ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এক অনন্য ঐতিহ্যের সাক্ষী কেরালা

কেরালার তিরুবনন্তপুরমের শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের শতাব্দী প্রাচীন ‘পৈঙ্কুনি আরট্টু’ উৎসব পালনে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল স্থানীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বৃহস্পতিবার পবিত্র স্নানযাত্রার শোভাযাত্রাকে পথ করে দিতে এই বিমানবন্দরের সমস্ত বিমান পরিষেবা টানা ৫ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রানওয়েতে কোনো বিমান ওঠানামা করেনি। কয়েক দশক ধরে চলে আসা এই রীতি অনুযায়ী, বছরে দুবার এই একইভাবে দেবতাকে পথ ছেড়ে দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

ঐতিহ্যবাহী এই শোভাযাত্রায় ত্রিবাঙ্কুর রাজপরিবারের বর্তমান প্রধান শ্রী মূলম তিরুনাল রাম বর্মা নেতৃত্ব দেন। রাজকীয় পোশাক ও তলোয়ার হাতে তাঁর নেতৃত্বে পদ্মনাভ স্বামী, নরসিংহ মূর্তি এবং কৃষ্ণ স্বামীর বিগ্রহ নিয়ে ভক্তরা বিমানবন্দরের রানওয়ের ওপর দিয়ে শঙ্খুমুখম সমুদ্র সৈকতের দিকে এগিয়ে যান। এই যাত্রায় সুসজ্জিত হাতি, অশ্বারোহী পুলিশ এবং পুলিশ ব্যান্ডও শামিল ছিল। বিমানবন্দরের টারম্যাকে অবস্থিত ‘আরট্টু মন্ডপম’-এ বিগ্রহগুলিকে কিছুক্ষণ রাখার পর সমুদ্রে পবিত্র স্নানের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৩২ সালে বিমানবন্দরটি যখন তৈরি হয়, তখন ত্রিবাঙ্কুরের তৎকালীন রাজা শ্রী চিথিরা তিরুনাল একটি শর্ত দিয়েছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, বিমানবন্দরটি বছরের ৩৬৩ দিন সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকলেও বাকি ২ দিন রাজপরিবারের কুলদেবতা শ্রী পদ্মনাভর জন্য উৎসর্গ করা হবে। বর্তমানে আদানি গ্রুপ এই বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকলেও সেই রাজকীয় ঐতিহ্য আজও অমলিন। প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বরের ‘আলপাসি’ এবং মার্চ-এপ্রিলের ‘পৈঙ্কুনি’ উৎসবের সময় এই বিশেষ নিয়ম মেনে চলা হয়।

ধর্মীয় আচার শেষে মশাল জ্বালিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিগ্রহগুলিকে যখন মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়, তখনই বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্ম পুনরায় শুরু হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, আধুনিক সময়ের যান্ত্রিক ব্যবস্থার মাঝেও এই ঐতিহ্য কেরালাবাসীর গভীর শ্রদ্ধা ও সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। রানওয়ে পরিষ্কার করার পর রাত ৯টার দিকে পুনরায় উড়ান পরিষেবা স্বাভাবিক ঘোষণা করা হয়। এই বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ করা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *