হলফনামা দিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, ছাব্বিশের লড়াইয়ের আগে বহরমপুর প্রার্থীর মোট সম্পত্তি কত

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণভেত্তারি বেজে উঠতেই বহরমপুর কেন্দ্র থেকে নিজের মনোনয়ন পত্র পেশ করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে নবগ্রামের বিধায়ক হিসেবে সংসদীয় রাজনীতি শুরু করা এই দাপুটে নেতা ফের একবার বিধানসভার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারের ধাক্কা সামলে এই নির্বাচন অধীরের কাছে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার এক বড় চ্যালেঞ্জ।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামায় নিজের যাবতীয় সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে অধীর চৌধুরীর হাতে নগদ রয়েছে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ৬ লক্ষ ৪২ হাজার ৬১১ টাকা। এ ছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডে ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৫০ টাকা এবং প্রায় ৩ লক্ষ টাকার জীবন বিমা রয়েছে তাঁর নামে।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির নিরিখে গত কয়েক বছরে অধীর চৌধুরীর সম্পত্তির গ্রাফ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তাঁর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি তাঁর নামে রয়েছে প্রায় ২৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৩২৯ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের হলফনামার তুলনায় এই অঙ্ক অনেকটাই বেশি, যেখানে তাঁর স্থাবর সম্পত্তি ছিল ২ কোটি ৭৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
বিলাসবহুল জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অধীর জানিয়েছেন, তাঁর একটি গাড়ি রয়েছে যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২২ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা। এছাড়াও তাঁর সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ২৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের সোনার গয়না। হলফনামায় তাঁর স্ত্রী অতসী চৌধুরীর সম্পত্তির বিবরণও দেওয়া হয়েছে, যার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বহরমপুরের দীর্ঘদিনের সাংসদ পদ হারানোর পর বিধানসভা নির্বাচনে অধীর চৌধুরীর এই প্রত্যাবর্তন রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যেমন নিজের গড় পুনরুদ্ধারের লড়াই, অন্যদিকে সম্পত্তির এই খতিয়ান—সব মিলিয়ে ভোটের আগে সরগরম মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুরের জনতা তাঁদের প্রাক্তন সাংসদকে বিধায়ক হিসেবে বেছে নেয় কি না।