বকেয়া ডিএ মিটতেই সরকারি কর্মীদের তীব্র অসন্তোষ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা ঘিরে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করলেও প্রাপ্য অঙ্কের সঙ্গে প্রাপ্ত টাকার বিস্তর ফারাক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নবান্নের দেওয়া হিসাব ও বাস্তব প্রাপ্তির এই অসঙ্গতি নিয়ে রাজ্যজুড়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার বাজেটে এপ্রিল মাস থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেও সেই বর্ধিত টাকার দেখা মেলেনি। উল্টে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ‘ছলচাতুরি’র আশ্রয় নিচ্ছে বলে দাবি করছেন কর্মীরা। অনেকের ফোনে নির্দিষ্ট অংকের মেসেজ এলেও অ্যাকাউন্টে জমা পড়া টাকার পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বকেয়া ডিএ-র এই অস্পষ্টতা ও বঞ্চনার প্রতিবাদে এবার সরাসরি নবান্ন ও কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছেন ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, পঞ্চম বেতন কমিশনের আমলের পাওনাও এখনও পুরোপুরি মেটানো হয়নি। আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় রাজ্য সরকার বড়সড় প্রশাসনিক সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে তাঁরা এখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে কর্মরতদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও পেনশনভোগীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে নবান্ন। একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের বকেয়া পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে পারিবারিক পেনশনভোগীসহ সকলের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন। এখন দেখার, পেনশনভোগীদের এই পদক্ষেপে কর্মরত কর্মীদের ক্ষোভ কতটা প্রশমিত হয়।