ইরানের প্রত্যাঘাতে কাঁপছে ইজরায়েল ও আমেরিকা, ২৪ ঘণ্টায় আহত ১৪৮ জন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। ইজরায়েল-আমেরিকা বনাম ইরান সংঘাত আজ ৩৫তম দিনে পা দিল। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইজরায়েলে অন্তত ১৪৮ জন আহত হয়েছেন। তেল আবিব থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে তেহরান এই লাগাতার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধের উত্তাপ বাড়িয়ে ইরান দাবি করেছে যে তারা আমেরিকার আরও একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) ফাইটার জেট ভূপাতিত করেছে। আইআরজিসি-র এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে মধ্য ইরানে এই ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের স্টিলথ জেটটি ধ্বংস করা হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করলেও, তেহরানের এই পাল্টা আঘাত নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
এদিকে মার্কিন হামলায় ইরানের বৃহত্তম সেতুটি ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৯৫ জন। আমেরিকা দাবি করেছিল যে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার সক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। ইরানের হাতে এখনও বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে যা বড়সড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে হরমোজ প্রণালী নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই বিষয়ে দায়ভার নিতে অনীহা প্রকাশ করার পর ভারতসহ বিশ্বের ৬০টি দেশ বৃহস্পতিবার একটি জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়। ভারতের পক্ষে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি এই আলোচনায় অংশ নেন। আন্তর্জাতিক জলপথে পণ্য পরিবহণ ও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল।
যুদ্ধের ময়দান থেকে আসা সাম্প্রতিক ভিডিওতে দেখা গেছে, মেঘের আড়াল থেকে হঠাৎ বেরিয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে ইজরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। দুপক্ষের এই চরম সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। ক্রমবর্ধমান এই হিংসা বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।