সিউড়িতে ১০০ কোটির আবাস দুর্নীতির অভিযোগ, সরগরম বীরভূমের রাজনীতি

বীরভূমের সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের উত্তাপ বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় রয়েছেন সিউড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, সিউড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২০১৯ থেকে ২০২২ অর্থবর্ষের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপ করা হয়েছে।
বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, বহু উপভোক্তার নামে বরাদ্দ হওয়া বাড়ির টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দিয়ে মোটা অংকের ‘কাটমানি’ নেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তিনি এই দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরেন। আগামী ২০ দিনে এই ধরনের আরও ২০টি দুর্নীতির ঘটনা ফাঁস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, যদি বিজেপি প্রার্থী এই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেন, তবে তিনি নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। এই তরজাকে কেন্দ্র করে সিউড়ির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বোলপুর ও সিউড়ি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র স্লোগান যুদ্ধ শুরু হয়। একদিকে বিজেপির “জয় শ্রী রাম” এবং অন্যদিকে তৃণমূলের “জয় বাংলা” স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে প্রশাসনিক চত্বর। সিউড়িতে তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিউড়ি ও বোলপুরের প্রশাসনিক এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে বর্তমানে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের আগে বীরভূম জেলায় দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ ক্রমেই চড়ছে।