এনআইএর আগেই মালদহ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সিআইডির জালে, দাবি মমতার

মালদহের সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনায় রাজ্য পুলিশের সাফল্য তুলে ধরে হরিরামপুরের জনসভা থেকে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এনআইএ সক্রিয় হওয়ার আগেই মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুলকে নেপাল পালানোর সময় গ্রেফতার করেছে সিআইডি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় সংস্থা আসার আগেই রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ তৎপরতার সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে।
এদিন নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি করে বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, পাঁচটি রাজ্যে ভোট চললেও ৪৮৩ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ থেকে। তাঁর আশঙ্কা, এই রদবদলের সুযোগ নিয়ে রাজ্যে বহিরাগতদের মাধ্যমে টাকা ও অস্ত্র ঢোকানোর চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, সীমান্ত দিয়ে অশান্তি তৈরির জন্য লোক আনা হচ্ছে। এমনকি সিআরপিএফ-এর গাড়িতে করে টাকা পাচারের গুরুতর অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, আধিকারিক বদল করা হয়েছে যাতে এই সব বেআইনি কাজ কেউ বাধা দিতে না পারে। তবে নতুন আধিকারিকদের প্রতি আস্থা রেখে তিনি শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর আহ্বান জানান।
বিজেপির পাশাপাশি আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে লোক এনে ভোট কাটাকাটির রাজনীতি করে আদতে বিজেপিকেই সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলের মাধ্যমে বাংলাকে পুনরায় বিভাজনের ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের শেষে এনআরসি ও ডিটেনশন ক্যাম্প প্রসঙ্গে নিজের কড়া অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকলে বাংলায় কোনোভাবেই ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেওয়া হবে না। বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর সাফ বার্তা, “যতই চক্রান্ত হোক, শেষ পর্যন্ত খেলা হবে।”