পুরশুড়ায় ‘ভূমিপুত্র’ বনাম ‘হেভিওয়েট’ লড়াই ভোটযুদ্ধের পারদ তুঙ্গে

আরামবাগ মহকুমার কৃষিপ্রধান কেন্দ্র পুরশুড়ায় জমে উঠেছে তৃণমূল ও বিজেপির দ্বৈরথ। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী বিমান ঘোষের বিরুদ্ধে এবার ‘ভূমিপুত্র’ পার্থ হাজারিকে ময়দানে নামিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কৃষি ফসলের ন্যায্য মূল্য, রাস্তা ও উন্নত পরিকাঠামোর দাবিতে যখন সরব স্থানীয় বাসিন্দারা, তখন রাজনৈতিক লড়াইয়ে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বহিরাগত বনাম ঘরের ছেলে। বামেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের লড়াই আর দুই শিবিরের জয় শ্রীরাম ও জয় বাংলা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।
তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হওয়ায় মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে তাঁকেই বেছে নেবেন। অন্যদিকে, বিদায়ী বিধায়ক বিমান ঘোষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে বিগত পাঁচ বছরের জনসম্পর্ক ও কাজের নিরিখে জয়ের মার্জিন আরও বাড়বে। বিজেপি শিবিরের মতে, ‘ভূমিপুত্র’ আবেগ বড় ফ্যাক্টর হবে না কারণ মানুষ কাজের বিচার করবে। তবে তৃণমূলের পোস্টারে ছেয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার অলিগলি বলছে, এবারের নির্বাচনে ঘরের ছেলের আবেগ ভোটারদের মধ্যে অন্যতম নির্ণায়ক শক্তি হতে চলেছে।
ভোটের সমীকরণে সিপিএমের শিক্ষক প্রার্থী সন্দীপ কুমার সামন্তের উপস্থিতি লড়াইকে ত্রিমুখী রূপ দিয়েছে। ২০২১ সালে বিজেপির জয়ের পিছনে বাম ভোট বড় ভূমিকা নিয়েছিল, যা এবার ফেরানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাম শিবিরের কাছে। কর্মসংস্থান ও উন্নত স্বাস্থ্যের দাবি নিয়ে ভোটারদের একটি অংশ যখন নিরপেক্ষ মত দিচ্ছে, তখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বিধবা ভাতার মতো সরকারি প্রকল্পগুলো তৃণমূলের বড় ভরসা। শেষ পর্যন্ত পুরশুড়ার মানুষ অভিজ্ঞ হেভিওয়েট নাকি ঘরের ছেলের ওপর ভরসা রাখেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।