কালিয়াচক কাণ্ডে বিদ্ধ বিদায়ী মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন তদন্তভার হাতে নিল এনআইএ

মালদহের কালিয়াচক কাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পথ অবরোধ, অশান্তি এবং বিচারকদের আটকে রাখার অভিযোগে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে এআইএমআইএম নেতা তথা আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে মোথাবাড়ির আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিকে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় কুড়ি জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের নাম জড়িয়ে পড়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে প্রথম থেকেই উপস্থিত ছিলেন মোথাবাড়ির বিদায়ী বিধায়ক। এমনকি বিজেপি নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন যে, বিচারকদের আটকে রাখার কয়েক ঘণ্টা আগে সাবিনা ইয়াসমিন নিজেই ওই বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাল্টা সরব হয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি দাবি করেছেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে ভয় পান বলেই এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে কালিয়াচকের ঘটনায় নিজের ভূমিকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি তিনি। উল্লেখ্য, একটি ভিডিওতে তাঁকে বিডিও অফিসের সামনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছে। এবারের নির্বাচনে দল তাঁকে মোথাবাড়ির পরিবর্তে সুজাপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে।
এদিকে মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার হওয়ার পরও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। বাগডোগরা হয়ে বেঙ্গালুরু পালানোর সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল পুলিশ, যার ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বৃহস্পতিবারই সর্বোচ্চ আদালত এই ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মোতাবেক জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ (NIA) মামলার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। শুক্রবার সকালেই এনআইএ-র একটি শীর্ষ দল কলকাতায় পৌঁছানোর পর সরাসরি মালদহের মোথাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নথিভুক্ত করবেন।
কালিয়াচকের এই ঘটনা এখন আর কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং এটি বড় মাপের রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত শুরু হওয়ায় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম জড়ানোয় আগামী দিনে এই মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।