ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানোর হুমকি ট্রাম্পের, আকাশছোঁয়া তেলের দাম

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানে মার্কিন বাহিনীর ‘প্রবল আঘাত’ অব্যাহত থাকবে। এই সামরিক অভিযানের ফলে ইরান কার্যত ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরে যাবে বলেও হুমকি দেন তিনি। ট্রাম্পের এই আকস্মিক অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে।
ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে খোদ মার্কিন কংগ্রেসেই। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রেসিডেন্টের ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তনকে ‘ভ্রান্তিবিলাস’ বলে কটাক্ষ করেছেন। কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি ও জিম হাইমস ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, সেনেটর ক্রিস ভান হোলেন অভিযোগ করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের বিজয় নিয়ে দেশবাসীকে ক্রমাগত মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন।
মার্কিন হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও। তিনি মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন যে, এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ থেকে সাধারণ মার্কিনিদের প্রকৃত স্বার্থ কী অর্জিত হবে? ট্রাম্প এর আগে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিলেও এদিনের ভাষণে সেই বিষয়ে বা আলোচনার কোনো ইঙ্গিত দেননি। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই নয়া অবস্থানে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক উদ্বেগ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।