ইরান যুদ্ধে ব্যস্ত ট্রাম্প, কিমের সাইবার হানায় ধুঁকছে মার্কিন অর্থনীতি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাত নিয়ে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ব্যস্ত, সেই সুযোগে আমেরিকার বিরুদ্ধে গোপন সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছেন উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন। পিয়ংইয়ং-এর প্রশিক্ষিত হ্যাকাররা একের পর এক আমেরিকান কো ম্পা নির সফটওয়্যারে আড়ি পেতে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, এই ডিজিটাল ডাকাতির মাধ্যমেই কিম তাঁর পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করছেন।
সম্প্রতি সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মার্কিন সংস্থাগুলোর অর্থ লোপাটের জন্য উত্তর কোরিয়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। গত মঙ্গলবার পিয়ংইয়ং-এর হ্যাকাররা ‘অ্যাক্সিওস’ নামক একটি জনপ্রিয় মার্কিন সফটওয়্যারের অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করে। স্বাস্থ্য ও অর্থায়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতের কো ম্পা নিগুলো এই সফটওয়্যার ব্যবহার করায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। গুগলের মালিকানাধীন সাইবার গোয়েন্দা সংস্থা ‘ম্যান্ডিয়েন্ট’ এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকিং গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘হানট্রেস’-এর গবেষক জন হ্যামন্ড জানিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই ১২টি কো ম্পা নির অন্তত ১৩৫টি হ্যাক হওয়া ডিভাইস শনাক্ত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। হোয়াইট হাউসের তথ্যানুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির প্রায় অর্ধেক অর্থ আসে এই ধরনের ডিজিটাল চুরি থেকে। ২০২৩ সালে কিমের হ্যাকাররা এক বছরে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দাবি, উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক মহলে তাদের ভাবমূর্তি নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়। তথ্যপ্রমাণ সামনে এলেও কিম প্রশাসন এই সাইবার হামলা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। ‘উইজ’-এর স্ট্র্যাটেজিক থ্রেট ইন্টেলিজেন্স বিভাগের পরিচালক বেন রিড স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রথাগত যুদ্ধের বাইরে গিয়ে এই অদৃশ্য অন্তর্জাল যুদ্ধ মার্কিন অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখার লড়াইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যখন মত্ত, তখন কিমের এই নীরব সাইবার হানা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সরকারের নজর এড়িয়ে কিম যেভাবে ডিজিটাল সম্পদ লুট করছেন, তাতে মার্কিন প্রযুক্তি খাতের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার এই পরিকল্পিত ‘ক্রিপ্টো ডাকাতি’ মোকাবিলায় পেন্টাগন কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার।