তামিলনাড়ুর বিজেপি প্রার্থী তালিকায় বড় চমক, মুরুগান ও তামিলিসাই ব্রাত্য আন্নামালাই

আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে দলের সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এই তালিকায় অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতাদের ওপর ভরসা রেখেছে গেরুয়া শিবির। প্রার্থী তালিকায় অন্যতম বড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এল মুরুগান এবং তেলেঙ্গানার প্রাক্তন রাজ্যপাল তামিলিসাই সুন্দররাজন। তবে জল্পনা থাকলেও দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক কে আন্নামালাইকে এবার টিকিট দেয়নি শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিজেপির এই তালিকায় অভিজ্ঞতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এল মুরুগান লড়বেন অবিনাশি (তপশিলি জাতি সংরক্ষিত) আসন থেকে। অন্যদিকে, হাই-প্রোফাইল মাইলাপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তামিলিসাই সুন্দররাজন। কোয়েম্বাটুর (উত্তর) আসনে আন্নামালাই প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বর্তমান বিধায়ক বনথি শ্রীনিবাসনের ওপরেই ভরসা রেখেছে দল। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পরিচিত মুখ ব্যবহারের এই রণকৌশল দক্ষিণের এই রাজ্যে জমি শক্ত করার চেষ্টাকেই ইঙ্গিত করছে।
প্রকাশিত তালিকায় আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য নাম রয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক এম. মুরুগানন্দম থাঞ্জাভুর কেন্দ্র থেকে এবং অধ্যাপক রমা শ্রীনিবাসন মাদুরাই দক্ষিণ থেকে লড়ছেন। এছাড়া নাইনার নাগেন্থরানকে প্রার্থী করা হয়েছে সত্তুর আসনে। বিজেপি এবার ২৩৪টি আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্রে লড়ছে, যার মধ্যে তপশিলি জাতি সংরক্ষিত আসনগুলোতেও অভিজ্ঞ নেতাদের প্রার্থী করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর নির্বাচনী ময়দান এবার বহুমুখী লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে। শাসক দল ডিএমকে ১৬৪টি আসনে লড়ছে এবং তাদের জোটসঙ্গী কংগ্রেসকে ২৮টি আসন ছেড়েছে। এছাড়াও বাম দলগুলো তাদের নির্ধারিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়। তাঁর দল টিভিকে রাজ্যের সবকটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে এবং বিজয় নিজে দুটি কেন্দ্র থেকে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আগামী ২৩শে এপ্রিল তামিলনাড়ুতে এক দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিজেপি, ডিএমকে জোট এবং বিজয়ের দলের ত্রিভুজ লড়াই রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হবে ৪ঠা মে। দক্ষিণী রাজনীতির এই অগ্নিপরীক্ষায় মোদি-শাহদের রণকৌশল কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।