মালদহের মোথাবাড়িতে এনআইএ আইজি সোনিয়া সিংয়ের নেতৃত্বে ২৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর মালদহের মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। শুক্রবার খোদ এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিংয়ের নেতৃত্বে ২৪ জনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কলকাতায় পৌঁছান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল নিরাপত্তাবেষ্টনী নিয়ে এই দলটি সরাসরি মালদহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ইতিমেই এনআইএ-র একটি ছোট দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বলে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত এসআইআর-এর কাজ চলাকালীন মোথাবাড়িতে কর্মরত বিচারকদের আটকে রাখাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার ক্ষোভ থেকে জনতা বিচারকদের হেনস্তা করে, যা নিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার পর এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এনআইএ-র আইজি পদমর্যাদার কোনো আধিকারিকের সরাসরি তদন্তে নামা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন। এর আগে খাগড়াগড় বা এগরার মতো বড় বিস্ফোরণ কাণ্ডেও আইজি পর্যায়ের নেতৃত্ব সচরাচর দেখা যায়নি। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে সরাসরি বিচারব্যবস্থার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করেছে, তাই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় রাজনৈতিক যোগসূত্র সামনে আসতে শুরু করেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামকে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক উসকানিকে দায়ী করেছেন। রাজ্যের অফিসারদের বদলি করার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
আগামী ৬ এপ্রিল এনআইএ-র পক্ষ থেকে প্রাথমিক রিপোর্ট সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। বিচারপতিদের নিরাপত্তা এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনো বহির্শক্তির প্রভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ভোটমুখী বাংলায় এনআইএ-র এই সক্রিয়তা এবং শীর্ষ আধিকারিকের উপস্থিতি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।