বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর নবান্ন তথ্য তলব করল অর্থ দফতর

রাজ্য সরকারের সহায়তাপ্রাপ্ত বা গ্রান্ট-ইন-এইড সংস্থার কর্মী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দ্রুত মেটাতে নবান্ন এক বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বুধবার অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে উচ্চশিক্ষা, স্কুলশিক্ষা, পুর ও নগরোন্নয়ন, পঞ্চায়েত এবং পরিবহণসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয় যে, গ্রান্ট-ইন-এইড সংস্থাগুলির কর্মীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। নির্দিষ্ট পোর্টালে দ্রুত এই তথ্য আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ পেনশনভোগীদের ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া ডিএ ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রান্ট-ইন-এইড সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার বা ডেটাবেস তৈরি না থাকায় এই প্রক্রিয়াটি আটকে ছিল। সেই জট কাটাতেই এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য।
সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাদের অধীনে থাকা সংস্থাগুলির কর্মীদের বেতন কাঠামো, চাকরির মেয়াদ এবং প্রাপ্য ডিএ-র সঠিক পরিমাণ খতিয়ে দেখে নির্ভুল রিপোর্ট পেশ করতে হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই বকেয়া অর্থের পরিমাণ গণনা করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা সংশ্লিষ্টদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তথ্য জমার গতির ওপরেই নির্ভর করছে টাকা পাওয়ার সময়সীমা।
প্রশাসনিক মহলের মতে, বকেয়া ডিএ নিয়ে গ্রান্ট-ইন-এইড সংস্থার কর্মীদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ মেটাতেই এই সক্রিয় পদক্ষেপ। যদিও বিভিন্ন সংস্থার বিপুল তথ্য একত্র করা বেশ সময়সাপেক্ষ, তবুও রাজ্যের কড়া মনোভাবে এই প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থ দফতর নিয়মিত এই কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে বলেও জানানো হয়েছে।