দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী বদল এনসিইআরটি পেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটি-কে ‘ডিমড টু বি ইউনিভার্সিটি’ বা সমতুল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। গত ৩০শে মার্চ একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। এই ঘোষণার ফলে শিক্ষা গবেষণা ও পাঠ্যক্রম তৈরির এই শীর্ষ সংস্থাটি এখন থেকে নিজস্ব স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের ক্ষমতা অর্জন করল।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি-র সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই শিক্ষা মন্ত্রক এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এনসিইআরটি-কে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ইউজিসি। শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাবেই সিলমোহর দিল কেন্দ্র। তবে শুধুমাত্র দিল্লির মূল দপ্তর নয়, এনসিইআরটি-র অধীনে থাকা দেশের ছয়টি আঞ্চলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও (RIE) এখন থেকে সমতুল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা উপভোগ করবে।
নতুন এই মর্যাদার সঙ্গে বেশ কিছু কঠোর শর্তও আরোপ করেছে কেন্দ্র। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, শিক্ষা প্রসারের আড়ালে এনসিইআরটি কোনোভাবেই ব্যবসায়িক বা মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে পারবে না। প্রতিটি অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রাম চালুর ক্ষেত্রে ইউজিসি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর নিয়মাবলী যথাযথভাবে পালন করতে হবে। এমনকি ভবিষ্যতে নতুন কোনো অফ-ক্যাম্পাস বা বিদেশের মাটিতে কেন্দ্র খোলার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রের কড়া নীতি মেনে চলতে হবে।
নতুন এই যাত্রাপথে গবেষণার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রক এনসিইআরটি-কে অবিলম্বে পিএইচডি এবং বিভিন্ন সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শিক্ষা কর্মসূচি শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) এবং ইউজিসি-র গাইডলাইন অনুসরণ করে প্রচলিত গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে নতুন নতুন বিষয়ে জ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটানোই এই রূপান্তরের মূল লক্ষ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা পাওয়ার ফলে এখন থেকে এনসিইআরটি-র জন্য জাতীয় স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের র্যাঙ্কিং বা এনআইআরএফ-এ অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পড়ুয়ার জন্য ‘অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্ক অফ ক্রেডিট’ তৈরি করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের অর্জিত ক্রেডিটগুলো ডিজিটাল লকারে আপলোড করতে হবে যাতে তা সরাসরি পোর্টালে দৃশ্যমান হয়। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের স্কুল শিক্ষা এবং শিক্ষক শিক্ষণ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।