বিপজ্জনক ফাইভ স্ট্রেটস, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের অশনি সংকেত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ মাত্র পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের ওপর নির্ভরশীল। এই পথগুলো অবরুদ্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের বাজার মারাত্মক সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সামুদ্রিক তেল সরবরাহ হয় মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরান ভৌগোলিকভাবে এই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে, যেখানে মোতায়েন করা অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ও ড্রোন যে কোনো জাহাজের জন্য বড় হুমকি। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার ফলে এই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।
হরমুজ ছাড়াও আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো বাব-আল-মানদব, মালাক্কা প্রণালী, সুয়েজ খাল এবং তুর্কি প্রণালী। এই পাঁচটি পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এর মধ্যে বাব-আল-মানদবে হুতি বিদ্রোহীদের তৎপরতা এবং মালাক্কা প্রণালীতে জলদস্যুদের উপদ্রব সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নাজুক করে তুলেছে। ২০২৫ সালে মালাক্কায় ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জলদস্যুতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
সুয়েজ খাল ও তুর্কি প্রণালীর স্থিতিশীলতাও এখন প্রশ্নের মুখে। সুয়েজ খাল দিয়ে প্রতিদিন ৭.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যাতায়াত করলেও লাল সাগরের অস্থিরতা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ২০২১ সালে একটি জাহাজ আটকে পড়ায় যে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল, সেই স্মৃতি এখনও তাজা। অন্যদিকে, তুর্কি প্রণালী দিয়ে রাশিয়া ও কাস্পিয়ান অঞ্চলের তেলের বড় অংশ সরবরাহ হয়, যা বন্ধ হলে জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়বে।
হরমুজ প্রণালীর ওপর ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যুদ্ধের আগে চীন এখান থেকে ৩৮ শতাংশ এবং ভারত ১২-১৫ শতাংশ তেল আমদানি করত। ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় অর্ধেক মেটানো হয় এই পথ দিয়ে। যদি এই সরবরাহ শৃঙ্খল কোনো কারণে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি এবং গভীর অর্থনৈতিক সংকট অনিবার্য হয়ে উঠবে।