শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে বড় বিপদ, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশে স্কুল ক্যাম্পাসে মোবাইল নিষিদ্ধ

শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে বড় বিপদ, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশে স্কুল ক্যাম্পাসে মোবাইল নিষিদ্ধ

স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও ডিজিটাল আসক্তির কারণে বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। পড়াশোনায় মনোযোগের অভাব এবং সাইবার বুলিংয়ের মতো সমস্যার মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার প্রবণতা বাড়ছে। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৫৮ শতাংশ দেশে এখন স্কুল ক্যাম্পাসে স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে মাত্র ২৪ শতাংশ দেশে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। ২০২৫ সালের শুরুতে তা বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়ায় এবং বর্তমানে তা ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই পদক্ষেপ গ্রহণে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। যদিও অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলো এই তালিকায় কিছুটা পিছিয়ে। তবে পোল্যান্ড, কলম্বিয়া ও পেরুর মতো দেশগুলো সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, হাঙ্গেরির মতো দেশে মোবাইল ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করার পর স্কুল চলাকালীন ফোনের ব্যবহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। শিক্ষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং খেলাধুলার মতো আউটডোর অ্যাক্টিভিটি বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি অনেক পড়ুয়া ডিজিটাল পর্দার বদলে বই পড়ার প্রতি নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা তাদের আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের জন্য প্রতিনিয়ত নতুন বিপদ তৈরি করছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো মাধ্যমগুলো কিশোরীদের মধ্যে শারীরিক গঠন নিয়ে হীনম্মন্যতা ও সামাজিক চাপ তৈরি করছে। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট অ্যালগরিদমের কারণে কিশোর ব্যবহারকারীরা খুব অল্প সময়ের ব্যবধানেই নেতিবাচক কন্টেন্টের শিকার হচ্ছে। এটি তাদের খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

মূলত ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ডিজিটাল ডিভাইস বর্জন করার এই সিদ্ধান্ত এখন বিশ্বজনীন শিক্ষানীতির অংশ হয়ে উঠেছে। যদিও সকল শিক্ষক এই পরিবর্তনের হার নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন, তবুও একাংশের মতে এটি শিক্ষার্থীদের সুস্থ শৈশব ফিরিয়ে দেওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে আগামী দিনে আরও অনেক দেশ এই পথ অনুসরণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *