মালদহ কাণ্ডে বিদ্ধ বিজেপি, ভোটের দিন মা-বোনেদের ঝাঁটা হাতে বেরোনোর ডাক মমতার

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক পারদ চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদহের কালিয়াচকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ‘বন্ধক’ রাখার ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে শুক্রবার তোপ দাগেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে এনে এই অশান্তি পাকানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এনআইএ ব্যর্থ হলেও রাজ্যের সিআইডি ইতিমধ্য়েই মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে ঘটনার কিনারা করেছে।
এদিন হাজারিপার মাঠের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, মালদহের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। মুম্বই থেকে লোক এনে এই হিংসা ছড়ানো হয়েছিল। প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে গত বুধবার গ্রামবাসীরা বিডিও অফিস ঘেরাও করে সাতজন আধিকারিককে আটকে রাখে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বিজেপি এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।
নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাঁচটি রাজ্যে ভোট থাকলেও কেন শুধু বাংলা থেকেই ৪৮৩ জন অফিসারকে বদলি করা হলো? পুলিশ মহলে এই ব্যাপক রদবদল আসলে রাজ্য প্রশাসনকে দুর্বল করার একটি কৌশল বলে তিনি দাবি করেন। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে সিআরপিএফের গাড়িতে করে টাকা পাচারের গুরুতর অভিযোগও আনেন তিনি।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটের দিন মা-বোনেরা হাতে ঝাঁটা নিয়ে ভোট দিতে যান এবং যাওয়ার সময় রাস্তা পরিষ্কার করুন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্তের জবাব ব্যালট বক্সেই দেওয়ার ডাক দেন তিনি। তাঁর হুঁশিয়ারি, “খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে এবং এই খেলা হবে অত্যন্ত জোরদার।”
এদিকে মালদহ কাণ্ডের তদন্তে নেমে সিআইডি ইতিমধ্যেই বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মফক্করুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ব্যক্তি একজন আইনজীবী ও প্রাক্তন এআইএমআইএম প্রার্থী। অন্যদিকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-ও এই ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের মুখে মালদহের এই হিংসা ও মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা আক্রমণ ঘিরে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি।