জলতলে ভারতের শক্তিবৃদ্ধি নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো পরমাণু শক্তিচালিত আইএনএস অরিদমণ

জলতলে ভারতের শক্তিবৃদ্ধি নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো পরমাণু শক্তিচালিত আইএনএস অরিদমণ

ভারতীয় নৌবাহিনীর সমর সম্ভারে যুক্ত হলো আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র। শুক্রবার বিশাখাপত্তনমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ ‘আইএনএস অরিদমণ’-কে নৌবাহিনীর নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করেন। এর ফলে সমুদ্রসীমা রক্ষায় ভারতের সামরিক সক্ষমতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেল।

প্রজেক্ট এটিভি-র অধীনে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এটি অরিহন্ত শ্রেণির তৃতীয় সাবমেরিন। বিশাখাপত্তনমের শিপ বিল্ডিং সেন্টারে অত্যন্ত গোপনে এই ডুবোজাহাজটি নির্মাণ করা হয়েছে। আইএনএস অরিদমণ যুক্ত হওয়ার ফলে ভারত এখন জলে, স্থলে ও আকাশে—তিন বিভাগেই পরমাণু হামলা মোকাবিলা বা পালটা প্রত্যাঘাত করার ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বাবলম্বী হয়ে উঠল।

কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, এটি কেবল একটি নাম নয়, বরং ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রতীক। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। অরিদমণের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই হাতেগোণা দেশগুলির তালিকায় নিজের অবস্থান আরও মজবুত করল, যাদের কাছে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক সাবমেরিন রয়েছে।

আইএনএস অরিদমণ পূর্বসূরি অরিহন্তের তুলনায় আরও বেশি উন্নত প্রযুক্তি ও শক্তিশালী মারণাস্ত্রে সজ্জিত। এতে দীর্ঘ পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল মোতায়েন করার সুবিধা রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কড়া জবাব দিতে সক্ষম। সাবমেরিনটির নকশা এবং গঠন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি দীর্ঘ সময় জলের তলায় নিঃশব্দে অবস্থান করে নজরদারি চালাতে পারে।

একই অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নতুন স্টিলথ ফ্রিগেট ‘তাড়াগিরি’-কেও নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেন। নীল জলরাশিতে ভারতের একাধিপত্য বজায় রাখতে এই যমজ যুদ্ধজাহাজের সংযোজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে এই শক্তিবৃদ্ধি কৌশলগতভাবে ভারতকে অনেকটাই এগিয়ে রাখল।

নৌবাহিনীর আধিকারিকদের মতে, আইএনএস অরিদমণ কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালনেও সমান পারদর্শী। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের এক বড় সাফল্য। আগামী দিনে এটি ভারতীয় জলসীমার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করবে এবং বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের সামরিক সক্ষমতার পরিচয় দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *