চিকিৎসা সরঞ্জামের আভাবে অভিনব কায়দা, ডায়ালিসিস কিট দিয়ে হার্ট অপারেশন করে প্রাণ বাঁচালেন চিকিৎসক

মহারাষ্ট্রের এক প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় পরিকাঠামোর অভাবকে জয় করে নজির গড়লেন চিকিৎসক অনুপ মহাজনী। কার্ডিয়াক কিট না থাকায় জরুরি ভিত্তিতে কিডনি ডায়ালিসিস ক্যাথেটার ব্যবহার করে এক মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচালেন তিনি। ঘটনাটি ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসকের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের ৩৫ বছর বয়সী টিবি রোগী মনোহর পাওয়ার গুরুতর অবস্থায় নন্দগাঁও থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে রোহায় ডাক্তার মহাজনীর ওপিডি-তে পৌঁছান। শারীরিক পরীক্ষার পর জানা যায়, রোগী ‘কার্ডিয়াক ট্যাম্পোনেড’ সমস্যায় আক্রান্ত। অর্থাৎ তার হৃৎপিণ্ডের পেরিকার্ডিয়াল থলিতে অতিরিক্ত তরল জমা হওয়ায় হৃদযন্ত্রের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল, যা যেকোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী হতে পারত।
পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কার্ডিয়াক ক্যাথেটার উপলব্ধ ছিল না। সাধারণ পদ্ধতিতে পেসমেকার বা বিশেষ সুঁইয়ের প্রয়োজন হলেও স্থানীয় ফার্মেসিতে তা পাওয়া যায়নি। সময় এবং অর্থের অভাবে রোগীর পরিবারও দূরে যেতে আসাম্মতি জানায়। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ডাক্তার মহাজনী ডায়ালিসিস ক্যাথেটার ব্যবহারের সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।
প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফ্লোরোস্কোপি বা এক্স-রে ইমেজিং সুবিধা ছাড়াই চিকিৎসক এক হাতে ২ডি ইকো মেশিন ধরে অন্য হাতে সুঁই নিয়ন্ত্রণ করে অস্ত্রোপচার শুরু করেন। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তিনি ওই ডায়ালিসিস কিটের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে জমা হওয়া প্রায় ১.৫ লিটার তরল বের করে আনেন। এতে হৃৎপিণ্ডের ওপর থাকা মরণপণ চাপ দ্রুত কমতে শুরু করে।
সাফল্যজনক এই অস্ত্রোপচারের পর রোগীর রক্তচাপ স্বাভাবিক হয় এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার উন্নতি ঘটে। প্রাথমিক ধকল সামলানোর পর উন্নত চিকিৎসার জন্য মনোহরকে জেজে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। প্রতিকূল পরিবেশে চিকিৎসকের এই ‘জুয়াড়’ বা উদ্ভাবনী কৌশল এখন সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে।