শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবিতে ব্রিটিশ ল ফার্মের চিঠি ঘিরে তোলপাড় আইনি ভিত্তি নিয়ে বিতর্ক

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবিতে ব্রিটিশ ল ফার্মের চিঠি ঘিরে তোলপাড় আইনি ভিত্তি নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি জানিয়ে ব্রিটিশ ল’ ফার্ম ‘কিংসলি নাপলি’-র পাঠানো একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। চিঠিতে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, বিচারকদের নিরপেক্ষতা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে রায় বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পুনর্বিচারের আর্জি জানিয়ে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বিষয়টিকে সরাসরি ‘আদালত অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পলাতক কোনো আসামি আদালতে হাজির না হয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিদেশি ল’ ফার্ম বা আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না। বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে এর কোনো সুযোগ নেই এবং এই চিঠির মূল উদ্দেশ্য ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কিত করা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিঠির কোনো কার্যকর আইনগত গুরুত্ব নেই। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের একাংশ একে ‘পাবলিসিটি স্ট্যান্ট’ হিসেবে দেখছেন, কারণ দণ্ডিত ব্যক্তি পলাতক থাকা অবস্থায় তাঁর পক্ষে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা আপিল গ্রাহ্য হয় না। শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর বর্তমানে মামলাটি আপিল পর্যায়ে থাকলেও আসামির অনুপস্থিতিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের এমন হস্তক্ষেপকে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বহীন বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *